বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় লাফ, ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪২০৯.৭১ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ও ফেডের সুদের ইঙ্গিত—সোনার বাজারে ঊর্ধ্বগতি বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় কম বৃদ্ধি পাওয়ার পর ডলারের মান কমেছে। একই সময়ে অক্টোবরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে না—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই দুই পরিস্থিতির প্রভাবে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে পরিচিত সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৯ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে ফিউচারস বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৪১ দশমিক ৯০ ডলার।
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বাজারের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি ও ডলারের প্রভাব
বিশ্ববাজারে সোনার দাম সাধারণত আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের বিভিন্ন সূচকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি, সুদের হার এবং ডলারের মূল্য সোনার বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলে।
উৎসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় কম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের মান কমেছে। পাশাপাশি অক্টোবর মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে না—এমন ইঙ্গিত বাজারে এসেছে।
সোনার কোনো সুদ বা নির্দিষ্ট আয় নেই। ফলে সুদের হার বাড়লে সুদনির্ভর সম্পদের তুলনায় সোনার আকর্ষণ কমতে পারে। বিপরীতে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা কমলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার বাজারে কিছুটা গতি তৈরি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রভাবই বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।
ব্যবসায়ীর দৃষ্টিতে সোনার বাজার

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী তাই ওং বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ বর্তমানে মূল্যস্ফীতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার মতে, সাম্প্রতিক তথ্য অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও কমিয়ে দেবে।
তাই ওংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ার ফলে সোনার বাজারে কিছুটা গতি দেখা যেতে পারে।
এখানে মূল বিষয় হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা কীভাবে বিনিয়োগকারীদের আচরণে প্রভাব ফেলছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের বাজারদর সেই পরিবর্তনের একটি তাৎক্ষণিক প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
স্পট মার্কেট ও গোল্ড ফিউচারসের দাম
৩০ সেপ্টেম্বরের বাজারদরে স্পট সোনার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২০৯ দশমিক ৭১ ডলার।
অন্যদিকে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৪১ দশমিক ৯০ ডলার।
অর্থাৎ একই দিনে স্পট মার্কেট এবং ফিউচারস—দুই বাজারেই সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে ফিউচারস বাজারে বৃদ্ধির হার স্পট মার্কেটের তুলনায় বেশি ছিল।
এই তথ্য বিশ্ববাজারে সোনার দাম নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার একটি চিত্র তুলে ধরে। তবে পরবর্তী সময়ে দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে অর্থনৈতিক তথ্য ও মুদ্রানীতির পরিবর্তনের ওপর।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজার পরিস্থিতি
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং বিভিন্ন ধাতুর দামে ভিন্ন ভিন্ন প্রবণতা ছিল।
বুধবার রুপার দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ সোনার বিপরীতে রুপার বাজারে ওই সময়ে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
অন্যদিকে প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি আউন্স প্ল্যাটিনামের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭১১ দশমিক ৭৭ ডলার।
প্যালাডিয়ামের দাম আবার ০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এতে প্রতি আউন্স প্যালাডিয়ামের দাম নেমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২১ দশমিক ৩৬ ডলার।
ফলে ৩০ সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও প্ল্যাটিনামের দাম বেড়েছে, আর রুপা ও প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে।
বাংলাদেশের বাজারে সোনার বর্তমান দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়লেও বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন মানের সোনার গহনার নির্ধারিত দামের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
উৎসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এক ভরি সোনার পরিমাণ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।
অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্ববাজারে সোনার দাম এবং দেশের বাজারে সোনার মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই বাজারদর পর্যবেক্ষণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সামনে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ
৩০ সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের সিদ্ধান্ত সোনার বাজারে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত সোনার বাজারে ইতিবাচক গতি তৈরি করেছে।
ডলারের মান কমে যাওয়াও এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। ডলার দুর্বল হওয়ার পর সোনার দাম বাড়তে দেখা গেছে। ফলে বিশ্ববাজারে সোনার দাম নিয়ে পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য এবং ফেডের মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের বাজারদরই ভবিষ্যতের নিশ্চিত প্রবণতা নির্দেশ করে—এমন তথ্য উৎসে নেই। তাই বর্তমান বাজারের পরিবর্তনকে ওই দিনের মূল্যস্ফীতি, ডলারের অবস্থান এবং সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটেই দেখা হচ্ছে।
৩০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ২০৯ দশমিক ৭১ ডলারে উঠেছে। মার্কিন গোল্ড ফিউচারস বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ, দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৪১ দশমিক ৯০ ডলার।
একই সময়ে রুপা কমেছে ০ দশমিক ৫ শতাংশ, প্ল্যাটিনাম বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং প্যালাডিয়াম কমেছে ০ দশমিক ১ শতাংশ।
বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য এবং বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারদর মিলিয়ে বিশ্ববাজারে সোনার দাম এখন ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও বাজার পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।





