নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কে মুস্তাফিজের খরুচে বোলিংয়ে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। ব্রোঞ্জের সুযোগ আছে।
নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। ১৩ ওভারে ১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানি ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সামনে বাংলাদেশের বোলিং পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে মুস্তাফিজের খরুচে বোলিং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।
ধীরগতির উইকেটে ১১২ রানের লক্ষ্যকে সহজ মনে করা হচ্ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান নিজের দুই ওভারে ৪১ রান দেওয়ায় পাকিস্তানের রান তাড়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারের ১০ বল আগেই ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
এই জয়ের ফলে পাকিস্তান এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, সেমিফাইনালে হেরে গেলেও বাংলাদেশের পদক জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়নি। টাইগারদের সামনে এখনো ব্রোঞ্জ পদক জয়ের সুযোগ রয়েছে।
সেমিফাইনালে বাংলাদেশের ১১২ রানের লক্ষ্য
নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কের ধীরগতির উইকেট বিবেচনায় ১৩ ওভারে ১১২ রানকে প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য হিসেবে দেখা হয়েছিল। এমন উইকেটে রান তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটারদের ধৈর্য ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার প্রয়োজন ছিল।
বাংলাদেশের সামনে ছিল পাকিস্তানকে থামিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার সুযোগ। তবে লক্ষ্য তাড়ার শুরু থেকেই পাকিস্তানি ব্যাটাররা বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন।
বিশেষ করে মুস্তাফিজের খরুচে বোলিং পাকিস্তানের রান তাড়াকে দ্রুত এগিয়ে নেয়। নিজের দুই ওভারেই ৪১ রান দিয়ে বসেন মুস্তাফিজুর রহমান। ফলে ১১২ রানের লক্ষ্য পাকিস্তানের জন্য আর কঠিন থাকেনি।
২ ওভারে ৪১ রান দিলেন মুস্তাফিজ
বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে পাকিস্তানি ব্যাটাররা শুরু থেকেই আক্রমণ করেন। তার দুই ওভারে আসে ৪১ রান। ফলে বাংলাদেশের দেওয়া মাঝারি লক্ষ্য অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানের নাগালে চলে আসে।
মুস্তাফিজের খরুচে বোলিংয়ের প্রভাব শুধু রান দেওয়ার হিসাবেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার ওভারগুলোতেই পাকিস্তানের ব্যাটাররা দ্রুত রান সংগ্রহ করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন।
ধীরগতির উইকেটে ১১২ রান তাড়া করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে যে চাপের মধ্যে পড়তে হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল, মুস্তাফিজুর রহমানের দুই ওভারের পর সেই পরিস্থিতি আর থাকেনি।
পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ

১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানি ব্যাটাররা বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। লক্ষ্য ছোট হওয়ায় তারা শুরু থেকেই রান তোলার গতি ধরে রাখেন।
একপর্যায়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ বাড়তে থাকে এবং পাকিস্তানের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ১৩ ওভারের ১০ বল বাকি থাকতেই পাকিস্তান জয় নিশ্চিত করে। তাদের হাতে তখনো ছিল ৬টি উইকেট।
অর্থাৎ, ১১২ রানের লক্ষ্য পাকিস্তান ১১.২ ওভারেই অতিক্রম করে। এই ফলাফল বাংলাদেশের জন্য সেমিফাইনালের লড়াইয়ে বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মুস্তাফিজের খরুচে বোলিংয়ের পর বদলে গেল হিসাব

ম্যাচের আগে ধীরগতির উইকেটের কারণে ১১২ রানের লক্ষ্যকে একেবারে সহজ হিসেবে দেখা হচ্ছিল না। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের দুই ওভারে ৪১ রান খরচের পর পাকিস্তানের সামনে সমীকরণ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।
মুস্তাফিজের খরুচে বোলিং নিয়ে ম্যাচের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাকিস্তান খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় রান সংগ্রহের সুযোগ পায়। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ওপর তৈরি হওয়া চাপও তখন আর পাকিস্তানের রান তাড়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি।
তবে শুধু একজন বোলারের পারফরম্যান্স দিয়েই পুরো ম্যাচের ফল ব্যাখ্যা করা যায় না। সোর্সে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানি ব্যাটাররা তাণ্ডব চালিয়ে সহজ জয় তুলে নিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্য রক্ষার কাজ কঠিন হয়ে পড়ে।
ফাইনালে পাকিস্তান, বাংলাদেশের সামনে ব্রোঞ্জের লড়াই
সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ায় বাংলাদেশের স্বর্ণপদক জয়ের স্বপ্ন আপাতত শেষ হয়েছে। তবে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে এখনো একটি পদক জয়ের সুযোগ রয়েছে লিটন দাসের দলের সামনে।
আসরের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। সেই ম্যাচের ফল বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করবে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে স্বর্ণপদকের জন্য লড়বে। আর পরাজিত দল বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে।
অর্থাৎ, পাকিস্তানের কাছে সেমিফাইনালে হারলেও বাংলাদেশের জন্য টুর্নামেন্ট এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তৃতীয় স্থান অর্জনের লড়াইয়ে মাঠে নামার সুযোগ থাকছে টাইগারদের।
বাংলাদেশের সামনে এখন তৃতীয় স্থান
স্বর্ণপদকের লড়াই থেকে ছিটকে গেলেও বাংলাদেশের সামনে এখন ব্রোঞ্জ জয়ের লক্ষ্য। দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফলের পরই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে।
এ কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালের হতাশা কাটিয়ে পরবর্তী ম্যাচে মনোযোগ দেওয়াই বাংলাদেশের সামনে তাৎক্ষণিক কাজ। তবে পরবর্তী ম্যাচে কীভাবে দল ঘুরে দাঁড়াবে, সে বিষয়ে সোর্সে কোনো অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ম্যাচের ফল এক নজরে
- পর্যায়: এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনাল
- ভেন্যু: নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্ক
- বাংলাদেশের লক্ষ্য: ১১২ রান
- পাকিস্তানের জয়: ৬ উইকেটে
- পাকিস্তানের জয়ের সময়: নির্ধারিত ওভারের ১০ বল বাকি থাকতে
- মুস্তাফিজুর রহমান: ২ ওভারে ৪১ রান
- পাকিস্তানের ফাইনাল প্রতিপক্ষ: ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের বিজয়ী দল
- বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ প্রতিপক্ষ: ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের পরাজিত দল
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পরবর্তী সুযোগ
সেমিফাইনালের ফল বাংলাদেশের স্বর্ণপদকের পথ বন্ধ করলেও পুরোপুরি পদকহীন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জিততে পারলে বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করতে পারবে।
পাকিস্তান ইতোমধ্যে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। এখন ভারত ও শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশকে।
সব মিলিয়ে, ধীরগতির উইকেটে ১১২ রানের লক্ষ্য নিয়ে যে ম্যাচে বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা করেছিল, সেখানে মুস্তাফিজের খরুচে বোলিং এবং পাকিস্তানি ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যাচের চিত্র দ্রুত বদলে দেয়। ৬ উইকেটের জয়ে পাকিস্তান ফাইনালে উঠলেও বাংলাদেশের সামনে এখনো ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ রয়েছে।





