আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (4)
এআই ছবির ঝড় তুললেন ট্রাম্প, দিচ্ছেন সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক বার্তা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (24)
আন্দোলন সফল, এবার কি ভোটের রাজনীতিতে নামবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
ব্রাজিল নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের চেষ্টা, মার্কিন ২ কর্মকর্তার ভিসা বাতিল
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
পদত্যাগ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যা বললেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
সিজেপির বিক্ষোভে আবারও সহিংসতা, ৫ পুলিশ আহত

জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি,  তেহরান বলছে, হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনকে কঠোর ইরানের ইউক্রেন হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং ইরান কোনো হামলা বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না। হামলায় একজন নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হওয়ার পর ইউক্রেনকে দায়ী করেছে ইরান।

রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইব্রাহিম আজিজি ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা হামলার জবাব দিতে দেশটি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ইরানের ইউক্রেন হুঁশিয়ারি কেন

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পরই তেহরানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ইরানের দাবি, হামলায় একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে ইরান।

ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলার মূল্য দিতে হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতেও হামলার জবাব দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ বিষয়টি ভালোভাবে জানে এবং ইউক্রেনও শিগগিরই বুঝতে পারবে যে ইরান কোনো পদক্ষেপের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেয় না।

আরেকটি পোস্টে আজিজি মন্তব্য করেন, ভুল হিসাব করা ব্যক্তিদের তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। তার এসব বক্তব্য থেকেই ইরানের পক্ষ থেকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ

একই দিন ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি। তিনি ইরানি জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই ঘটনার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।

আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজেই ইরানি জাহাজে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, ইউরোপকে নিজেদের যুদ্ধে টেনে আনার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের ইচ্ছায় এই হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করা হয়েছে।

আরাগচির বক্তব্য অনুযায়ী, একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। তিনি এই হামলাকে ইউরোপকে যুদ্ধে টেনে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ইরান এই ঘটনার জবাব না দিয়ে বসে থাকবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা

হামলার পর কূটনৈতিক পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে ইরান। সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

তিনি তাদের জানিয়েছেন, ইরানি জাহাজে হামলার জবাব না দিয়ে ইরান বসে থাকবে না।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তেহরান একদিকে যেমন হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

ইউক্রেনের কূটনীতিককে তলব তেহরানের

হামলার ঘটনায় এর আগেই তেহরানে ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে ইরান। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, ইউরেশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মহাপরিচালক মানুচেহর মোরাদি ইউক্রেনের কূটনীতিকের কাছে তেহরানের কঠোর প্রতিবাদ তুলে ধরেন।

মোরাদি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, এই হামলা জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন এবং আগ্রাসনের শামিল।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা কাস্পিয়ান সাগরসংলগ্ন দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনার জন্য ইউক্রেনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সব পদক্ষেপের ঘোষণা

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পৃথক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে ইরান।

মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের ওপর কোনো হামলা বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না। ফলে কাস্পিয়ান সাগরের এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেহরানের পক্ষ থেকে একাধিক পর্যায়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

জেলেনস্কির বক্তব্যে কী বলা হয়েছে

ইরানের কূটনৈতিক প্রতিবাদের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন।

সেখানে তিনি জানান, ইউক্রেন রাশিয়ার সামরিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে কাস্পিয়ান সাগরের লক্ষ্যবস্তুও ছিল।

তবে জেলেনস্কির ওই পোস্টে কোনো ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

এই অবস্থায় হামলার দায় নিয়ে ইরান ও ইউক্রেনের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ইরান সরাসরি ইউক্রেনকে দায়ী করে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে, জেলেনস্কির প্রকাশিত বক্তব্যে কাস্পিয়ান সাগরের লক্ষ্যবস্তুর কথা থাকলেও ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

সামনে আরও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেহরানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে কড়া বক্তব্য এসেছে। ইব্রাহিম আজিজি, সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—সব পক্ষই হামলার জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কাস্পিয়ান সাগরের লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার হামলার কথা উল্লেখ করলেও ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি।

ফলে ঘটনাটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে—এমন পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে হামলার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইরান ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হামলায় একজন নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হওয়ার পর তেহরান ঘটনাটির জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে এবং জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে একই বার্তা উঠে এসেছে—ইরান হামলার জবাব দেবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রকাশিত বক্তব্যে কাস্পিয়ান সাগরের লক্ষ্যবস্তুর কথা থাকলেও ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত