এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (7)
দাম কমার পর সোনার ভরি আজ কত?
News Photocard (10)
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি
News Photocard (6)
দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?
News Photocard (5)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত
News Photocard (7)
দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত?

ডিজিটাল নজরদারি, করদাতা বাড়িয়ে ভ্যাট আদায়ে জোর

ভ্যাট আদায় বাড়াতে নতুন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, অনলাইন রিটার্ন, ডিজিটাল নজরদারি, করদাতা বাড়িয়ে ভ্যাট আদায়ে জোরদার করছে এনবিআর; লক্ষ্য নিয়মিত রাজস্ব সংগ্রহ নিশ্চিত করা।

ভ্যাট আদায় বাড়াতে নতুন প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনা, বড় ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা এবং ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে ভ্যাট ফাঁকি শনাক্ত করতে মাঠপর্যায়ের অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে ভ্যাট আদায়ের হিসাব ও নতুন রিটার্ন ব্যবস্থার প্রভাব নিয়েও বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

এনবিআরের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু নতুন করদাতা বাড়ানো নয়; নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করছে কি না এবং যথাযথ ভ্যাট পরিশোধ করছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা। সরকারি রাজস্ব প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা এনবিআরের ওয়েবসাইটেও ভ্যাট ই-সেবা, ই-পেমেন্ট ও অনলাইন ভ্যাট ব্যবস্থার বিভিন্ন সুবিধা চালু থাকার তথ্য রয়েছে।

ভ্যাট আদায়ে অনলাইন রিটার্ন ও ডিজিটাল নজরদারি

এনবিআরের হিসাবে মোট ভ্যাট আদায়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে ১১টি খাত থেকে। ফলে এসব খাতের বড় প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সিগারেট, মোবাইল ফোন, ওষুধ, পানীয়, সিমেন্ট, এমএস পণ্য, টাইলস এবং রং ও বার্নিশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। সেবা খাতের মধ্যে বীমা, ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল আর্থিক সেবাও রয়েছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ভ্যাট রিটার্নের প্রায় ৬০ শতাংশ অনলাইনে জমা হচ্ছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বড় অঙ্কের ভ্যাট আসে এমন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেনের তথ্য অনলাইনে পাওয়া গেলে রাজস্ব কর্মকর্তাদের জন্য তথ্য যাচাই ও নজরদারি সহজ হবে। এতে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের দেওয়া ভ্যাটের হিসাব তুলনা করার সুযোগও বাড়বে।

এনবিআরের সরকারি প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে eVAT, VAT eFiling, ePayment ও অন্যান্য ভ্যাট-সংক্রান্ত ই-সেবা রয়েছে।

নতুন করদাতা বাড়ানোর উদ্যোগ

বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন করদাতা যুক্ত করাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআর। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই—এই ছয় মাসে ২৭ হাজার ৪০১টি নতুন প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে।

তবে নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়লেই ভ্যাট আদায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে না। নতুন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করছে কি না এবং ব্যবসার প্রকৃত পরিমাণ অনুযায়ী ভ্যাট পরিশোধ করছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ কারণে নিবন্ধনের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত রিটার্ন দাখিল ও ভ্যাট পরিশোধ নিশ্চিত করার দিকে নজর দিচ্ছে এনবিআর। ব্যবসার প্রকৃত লেনদেনের সঙ্গে দাখিল করা ভ্যাটের হিসাব মিলিয়ে দেখার বিষয়টিও এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নিবন্ধন থেকে নিয়মিত পরিশোধে নজর

নতুন করদাতা যুক্ত করার ফলে রাজস্বের পরিধি বাড়তে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে হলে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে।

এখানে অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থার গুরুত্ব রয়েছে। কারণ ডিজিটাল তথ্য থাকলে প্রতিষ্ঠানের রিটার্ন, লেনদেন ও ভ্যাট পরিশোধের তথ্য যাচাই করা তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।

এনবিআরের ভ্যাট কমপ্লায়েন্স গাইডেও নিবন্ধন, অনলাইন ভ্যাট এবং করদাতার দায়িত্বসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে ভ্যাট ফাঁকি শনাক্তে অভিযান

ডিজিটাল ব্যবস্থার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের অভিযানও বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে গোপন বিক্রয়, পণ্যের ভুল শ্রেণিবিন্যাস এবং কম ভ্যাট দেখানোর মতো অনিয়ম শনাক্ত করা হচ্ছে।

এসব অভিযানের একটি লক্ষ্য হলো ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায় করা। একই সঙ্গে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় নেই, তাদেরও নিবন্ধন ও নিয়মিত পরিশোধের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান বা চলমান ব্যবসার ওপর নজর দিলেই হবে না। পুরনো বকেয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘদিনের বকেয়া ভ্যাট আদায় করা না গেলে নতুন করদাতা বাড়ানোর সুফল মোট রাজস্বে সীমিত থাকতে পারে।

ত্রৈমাসিক রিটার্নে নতুন পরিবর্তন

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। জুলাই থেকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

এই ব্যবস্থায় জুলাই ও আগস্ট মাসের লেনদেনের রিটার্ন দাখিল এবং ভ্যাট পরিশোধের সময় সেপ্টেম্বর মাসে পড়েছে। নতুন ব্যবস্থার বাস্তব অভিজ্ঞতা এখন পর্যালোচনা করছে এনবিআর।

এরই মধ্যে মাসিক ভিত্তিতে রিটার্ন দাখিল ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা আবার চালুর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ফলে নতুন পদ্ধতির কার্যকারিতা মূল্যায়নে সেপ্টেম্বরের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট নীতি) মো. আজিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট আদায় হওয়ায় সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যাবে। তবে এখন পর্যন্ত এনবিআরের কাছে আসা ভ্যাট আদায়ের তথ্যকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জুলাই-আগস্টে ভ্যাট আদায়ের চিত্র

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবে ভ্যাট আদায়ে আগের বছরের তুলনায় কমতির চিত্র দেখা গেছে।

জুলাই ২০২৬-এ ভ্যাট আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। আগের বছরের একই মাসে আদায় হয়েছিল ১১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই সময়ের হিসাবে পার্থক্য রয়েছে।

আগস্টে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্টে এই পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৮১ কোটি টাকা।

তবে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট আদায়ের নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় শুধু জুলাই ও আগস্টের পরিসংখ্যান দিয়ে পুরো ব্যবস্থার প্রভাব মূল্যায়ন করতে চাইছে না এনবিআর। সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার পর তুলনামূলকভাবে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্য ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরে ভ্যাট থেকে ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনবিআর। এই লক্ষ্য পূরণে একদিকে নতুন করদাতা যুক্ত করা, অন্যদিকে বিদ্যমান করদাতাদের কাছ থেকে নিয়মিত ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করা—দুই দিকেই গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

বিশেষ করে যেসব খাত থেকে বড় অঙ্কের ভ্যাট আসে, সেসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের ওপর ডিজিটাল নজরদারি বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত রিটার্ন দাখিল এবং পুরনো বকেয়া আদায়ও লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

এনবিআরের বর্তমান ভ্যাট ই-সেবা কাঠামোর মধ্যে eBIN, VAT eFiling, ePayment ও অন্যান্য ডিজিটাল সুবিধা রয়েছে।

ভ্যাট আদায় বাড়াতে অটোমেশনের ওপর গুরুত্ব

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেছেন, নতুন উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা মাত্র দুই মাসের মধ্যে বাইরে থেকে মূল্যায়ন করা সমীচীন হবে না। তাঁর মতে, এনবিআর নিশ্চয়ই যুক্তিসংগত কারণেই এসব উদ্যোগ নিয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে ফলাফল স্পষ্ট হবে।

তিনি আরও বলেছেন, সবাইকে ভ্যাটের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে আদায় করা ভ্যাট যাতে সঠিকভাবে এবং সময়মতো সরকারি কোষাগারে জমা হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদের মতে, অটোমেশন হলে এই দুই কাজই সহজ হতে পারে। তাই তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে পুরো ভ্যাট ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে কী নজরে থাকবে

এনবিআরের বর্তমান কৌশলে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে—অনলাইন রিটার্ন, ডিজিটাল নজরদারি এবং মাঠপর্যায়ের অভিযান। এর সঙ্গে নতুন করদাতা নিবন্ধন এবং পুরনো বকেয়া ভ্যাট আদায়ের বিষয়টিও যুক্ত রয়েছে।

নতুন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করছে কি না, বড় খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন ও ভ্যাটের হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না এবং বকেয়া রাজস্ব কতটা আদায় করা যাচ্ছে—এসব বিষয় আগামী সময়ের ভ্যাট আদায়ের চিত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে ত্রৈমাসিক রিটার্ন ব্যবস্থার প্রথম পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং ডিজিটাল নজরদারির বিস্তৃতি থেকে কী ফল পাওয়া যায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরের হিসাব প্রকাশের পর নতুন ব্যবস্থার প্রভাব সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

এনবিআরের মূল লক্ষ্য তাই শুধু করদাতার সংখ্যা বাড়ানো নয়। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত ও যথাযথ ভ্যাট আদায়, ফাঁকি শনাক্ত, বকেয়া আদায় এবং পুরো ব্যবস্থাকে আরও অটোমেটেড করার মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহের ভিত্তি শক্ত করার চেষ্টা চলছে।

সর্বাধিক পঠিত