এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (23)
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন
News Photocard (14)
ফ্রান্সে ছাত্র বিক্ষোভ : স্কুলগুলোর অবস্থা কতটা জরাজীর্ণ
News Photocard (18)
ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলন: ইসলামপন্থীরা ক্ষমতা দখল করতে চাইছে : ট্রাম্প
News Photocard (6)
প্রথমবারের মতো সক্রিয় মক্কা চুক্তি, সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে তুরস্ক-পাকিস্তান
News Photocard (3)
‘সময় নষ্টের যুগ শেষ’, যুক্তরাষ্ট্র ৭ শর্ত না মানা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হরমুজ : গালিবাফ

হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে হামলা, তেলের দাম বেড়ে ১০২ ডলার

হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে হামলা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে। ব্রেন্ট ১০২.৩০ ডলারে উঠেছে, সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের অষ্টম মাসে প্রবেশের পর অক্টোবর মাসে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ০৬ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৩০ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫১ ডলার, ফলে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৭৯ ডলারে।

হরমুজ প্রণালিতে হামলা বাড়ায় সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো তেল রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও হামলার আশঙ্কায় জাহাজ চলাচলের ব্যয় এবং পণ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে।

এর ফলে একদিকে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে পরিবহনব্যবস্থায় বাড়ছে ঝুঁকি। বাজারে সরবরাহ থাকলেও তা কতটা নিরাপদ ও টেকসইভাবে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো যাবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

কাতারের উত্তরে তেলবাহী জাহাজে হামলা

সর্বশেষ হামলার ঘটনায় কাতারের উত্তরে একটি তেলবাহী জাহাজে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। বুধবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানিয়েছে, ওই হামলায় কিছু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

জাহাজে হামলার এসব ঘটনা শুধু মানবিক নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের পরিবহনব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লে তেলের বাজারে ঝুঁকির প্রিমিয়ামও বাড়তে পারে।

আইইএর তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তেও কাটেনি বাজারের উদ্বেগ

তেলের দাম বৃদ্ধির আগে বুধবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ কৌশলগত মজুত থেকে দ্রুত তেল ছাড়ার কার্যক্রমে গতি আনার সিদ্ধান্ত নেয়। জ্বালানির দাম ও সরবরাহে বড় ধরনের চাপ মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডিজেল সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

আইইএর ঘোষণার পর বুধবার তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় বাজারে আবার সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ ফিরে আসে।

এ বিষয়ে এএনজেড ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পণ্যবাজার কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইনসের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, অতীতে এ ধরনের হামলার কারণে পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার নজির রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাঠানোর বিকল্প পথ সীমিত হওয়ায় উৎপাদক দেশগুলো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও রপ্তানি চালিয়ে যেতে চাইছে।

কৌশলগত মজুত সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে

ড্যানিয়েল হাইনস মনে করেন, কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার ফলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব। তবে এতে নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয় না।

তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইইএর নতুন পরিকল্পনায় যে তেল ছাড়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর সময় ঘোষিত ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার মূল পরিকল্পনারই অংশ হতে পারে। অর্থাৎ এটিকে কৌশলগত মজুত থেকে সম্পূর্ণ নতুন করে অতিরিক্ত তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত।

এ কারণে মজুত থেকে তেল বাজারে আসার খবর সাময়িকভাবে সরবরাহের চাপ কমালেও হরমুজ প্রণালিতে হামলা অব্যাহত থাকলে বাজারের মৌলিক ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত কমাও দাম বৃদ্ধির কারণ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক ও ভোক্তা যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যও বৃহস্পতিবার তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

গত ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বাস্তবে মজুত কমেছে তার চেয়েও বেশি।

মজুতের এই পতন বাজারে সরবরাহের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে নজর তৈরি করেছে। বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে একই সময়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের মজুত কমে যাওয়ার তথ্যও দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে।

ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুতও কমেছে। গত সপ্তাহে এসব জ্বালানির মজুত ৪২ হাজার ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। বছরের এই সময়ের গত পাঁচ বছরের গড় মজুতের তুলনায় এই পরিমাণ বেশ কম।

কেন হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি তেলের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ

হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। এই পথে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে শুধু উৎপাদক দেশগুলো নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আমদানিকারকরাও প্রভাবিত হতে পারেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। বরং উপসাগরীয় দেশগুলো রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু হামলার ঝুঁকি, জাহাজের নিরাপত্তা এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

ফলে বাজারে তেলের পরিমাণের পাশাপাশি সরবরাহের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি যত বাড়বে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকবে।

সামনে বাজারের প্রধান ঝুঁকি সরবরাহ ও নিরাপত্তা

বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের বাজারে একাধিক বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে। একদিকে আইইএ কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার কার্যক্রম দ্রুত করছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বাড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে।

ড্যানিয়েল হাইনসের বক্তব্য অনুযায়ী, কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার মাধ্যমে সাময়িকভাবে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হলেও এটি নতুন উৎপাদন সক্ষমতার বিকল্প নয়। ফলে সরবরাহব্যবস্থার মূল ঝুঁকি দূর করতে শুধু মজুত থেকে তেল ছাড়াই যথেষ্ট নয়।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং তেল সরবরাহ কতটা স্থিতিশীল থাকে তার ওপর।

সর্বাধিক পঠিত