প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে হবে।
জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।
প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নির্দেশনার মূল দিকসমূহ

বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে আসন্ন বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে গৃহীত নিরাপত্তা পদক্ষেপ। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন, এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়।
-
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপ:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও তদন্ত ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। -
সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নিরাপত্তা:
পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি দুটি জাতীয় দৈনিক ও দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। -
চট্টগ্রামে হাইকমিশনারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:
চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের নিকটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। -
দেশব্যাপী নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা:
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। -
নির্বাচনকালীন বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি:
আসন্ন নির্বাচনের সময় কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা, উন্মাদনা প্রতিরোধ ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। -
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ:
প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যেক অপরাধ ও উন্মাদনার ঘটনায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। -
জনসাধারণকে সচেতন করার নির্দেশনা:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে জনসাধারণকে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সচেতন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্তমান অবস্থা
গ্রেপ্তারকৃতরা হল— মো. কাশেম ফারুকি, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, মো. সোহেল রানা, এবং মো. শফিকুল ইসলাম। বাকি সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
পুলিশ প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে এখনও আরও সন্দেহভাজন চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায় যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনসাধারণের নিরাপত্তা
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা স্পষ্ট করে যে, যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হবে। জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, জনগণকে নিরাপদ রাখতে সকল পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।




