কেন রদ্রিকে কিনতে চাইছে রিয়াল মাদ্রিদ, বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স, চুক্তির মেয়াদ ও স্প্যানিশ তারকার প্রতি রিয়ালের আগ্রহের কারণ জানুন।
বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জয়ের পর স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে ঘিরে দলবদলের বাজারে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির এই ৩০ বছর বয়সী ফুটবলারকে দলে নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। মাদ্রিদভিত্তিক একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, রদ্রির সঙ্গে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। এখন রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যে সমঝোতা হলেই কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের সঙ্গে একই দলে দেখা যেতে পারে তাঁকে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, রদ্রিকে কিনতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ কেন? এর পেছনে রয়েছে বিশ্বকাপে রদ্রির অসাধারণ পারফরম্যান্স, রিয়ালের মিডফিল্ডে নতুন বড় নামের প্রয়োজন, স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের দলে ফেরানোর আগ্রহ এবং ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাঁর চুক্তির বর্তমান পরিস্থিতি।
বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে বদলেছে রিয়ালের ভাবনা
রদ্রির প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে আসছে তাঁর বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স। গোল বা অ্যাসিস্ট না করেও তিনি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছেন। তাঁর এই স্বীকৃতি মূলত মাঠে তাঁর সামগ্রিক প্রভাবেরই প্রতিফলন।

পুরো বিশ্বকাপজুড়েই রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ, খেলার গতি পরিচালনা এবং দলের ভারসাম্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
এই পারফরম্যান্সের পরই রদ্রিকে নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহ আরও জোরালো হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
রদ্রিকে কিনতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ: মূল কারণ কী?
রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ হিসেবে জোসে মরিনিও দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ক্লাবটি একজন মিডফিল্ডার খুঁজছে বলে মাদ্রিদভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সেই তালিকায় এখন রদ্রিকেই সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের আগে রদ্রিকে নিয়ে জোসে মরিনিও বা রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের আগ্রহ খুব বেশি ছিল না। তবে বিশ্বকাপে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।
অর্থাৎ, রদ্রির বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স রিয়ালের পরিকল্পনায় তাঁকে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
রিয়ালের মিডফিল্ডে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন
বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে অঁরেলিয়া চুয়ামেনি ও এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার মতো খেলোয়াড় রয়েছেন। তবুও ক্লাবটি আরও একটি বড় নাম যুক্ত করতে আগ্রহী।
চুয়ামেনি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের একাদশে জায়গা করে নিয়েছিলেন। অন্যদিকে তাঁর ফরাসি সতীর্থ কামাভিঙ্গা ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্কোয়াডেই জায়গা পাননি। এই পরিস্থিতিতে রিয়াল মাদ্রিদ মাঝমাঠে আরও অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত একজন খেলোয়াড়কে যুক্ত করতে চাইছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
রদ্রির অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার সক্ষমতা তাঁকে এই অবস্থানের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের দলে ফেরানোর আগ্রহ
রিয়াল মাদ্রিদের রদ্রির প্রতি আগ্রহের আরেকটি কারণ হিসেবে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের দলে ফেরানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে।
স্পেন বিশ্বকাপ জিতলেও সেই দলে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড় ছিলেন না। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর মাদ্রিদে আরও স্প্যানিশ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি দেখতে চাইছেন ক্লাবটির কর্তারা।
এই প্রেক্ষাপটে রদ্রি রিয়ালের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি স্প্যানিশ জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবং বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন।
এদিকে বিশ্বকাপজয়ী লেফটব্যাক মার্ক কুকুরেয়া গত মৌসুমে চেলসিতে ছিলেন। বিশ্বকাপ চলাকালেই তাঁকে দলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের দলে ফেরানোর আগ্রহের সঙ্গে রদ্রির সম্ভাব্য দলবদলকে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।
রদ্রির সঙ্গে রিয়ালের সম্পর্কের ইঙ্গিত আগেই ছিল
রদ্রি নিজেও এর আগে রিয়াল মাদ্রিদে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। গত মার্চে তিনি জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে লা লিগা এবং মাদ্রিদে ফিরতে চান।
তখন তিনি আরও বলেছিলেন, আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলা তাঁর রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার পথে বাধা নয়। কারণ, অনেক ফুটবলারই মাদ্রিদের দুই ক্লাবেই খেলেছেন।
২০১৯ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে রদ্রি আতলেতিকো মাদ্রিদে খেলেছেন। ফলে স্পেনের রাজধানীতে ফেরার ইচ্ছা তিনি আগেই প্রকাশ করেছিলেন।
চুক্তির মেয়াদও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
রদ্রির বর্তমান চুক্তির পরিস্থিতিও সম্ভাব্য দলবদলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা।
এর ফলে সিটি যদি রদ্রিকে বিনা মূল্যে হারাতে না চায়, তাহলে চলতি বছরেই তাঁর জন্য ভালো প্রস্তাব পেলে তাঁকে বিক্রি করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
রদ্রি নতুন করে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তি নবায়নে এখন পর্যন্ত খুব বেশি আগ্রহ দেখাননি বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে ম্যানচেস্টার সিটি কিছুদিন আগে ১১.৬ কোটি পাউন্ড দিয়ে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে নিয়েছে। তিনি মাঝমাঠের বিভিন্ন পজিশনে খেলতে পারেন। তবে নতুন কোচ এনজো মারেসকা দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেছেন, রদ্রি তাঁর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই রদ্রিকে ঘিরে সিটির অবস্থানও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চোটের কারণে আপাতত মাঠের বাইরে রদ্রি
সম্ভাব্য দলবদলের আলোচনার মধ্যেই রদ্রির শারীরিক অবস্থাও আলোচনায় রয়েছে। পিঠের চোটের কারণে তাঁকে বেশ কিছু সময় মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
ম্যানচেস্টার সিটির কোচ এনজো মারেসকাও এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, ঠিক কবে রদ্রিকে আবার মাঠে দেখা যাবে।
দুই বছর আগে ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলারের চোট তাঁর দলবদল আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
রিয়াল ও সিটির মধ্যে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি
রদ্রির সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভাব্য ব্যক্তিগত সমঝোতার খবর এলেও দুই ক্লাবের মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, খুব শিগগিরই রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে। সেই আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে রদ্রির ভবিষ্যৎ।
রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে দলে নিতে পারবে কি না, নাকি ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডারকে ধরে রাখবে—এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব।
রদ্রিকে কিনতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ—দলবদলের আলোচনায় নতুন অধ্যায়
সব মিলিয়ে রদ্রিকে ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। বিশ্বকাপে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স, রিয়ালের মাঝমাঠে বড় নামের প্রয়োজন, স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের দলে ফেরানোর আগ্রহ এবং সিটির সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ—সবকিছুই সম্ভাব্য দলবদলের আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যে আলোচনাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, রদ্রিকে কিনতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ—এই আগ্রহ বাস্তবে রূপ নেয় কি না।





