আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ভিসা নিয়ে দূতাবাসের নতুন নির্দেশনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, যা বললেন রিজভী
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন ইসি সচিব
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (21)
চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

রাষ্ট্রপতি বেছে নিতে তাড়াহুড়ো করছে না সরকার, বেশি আলোচনায় কার নাম

রাষ্ট্রপতি বেছে নিতে তাড়াহুড়ো করছে না সরকার, বেশি আলোচনায় কার নাম, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সেপ্টেম্বরে হতে পারে। মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায় এগিয়ে থাকলেও বিএনপি দলীয় নাকি বাইরের প্রার্থী বেছে নেবে, তা এখনো চূড়ান্ত নয়।

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করছে না সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। গতকাল শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দলীয় নাকি বাইরের কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হবে, তা বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি সংবিধান ও আইন মেনে সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে।

বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মো. সাহাবুদ্দিন গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পদটি শূন্য হয়। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

কেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সেপ্টেম্বরে হতে পারে

সরকার ও বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কিছুটা সময় নিয়ে করার পেছনে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ জুলাই জাতীয় সনদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব যুক্ত হতে পারে। ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, সেটি স্পষ্ট হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করাকে যুক্তিযুক্ত মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের চিন্তাশীল নেতাদের মতে, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব বাড়লে প্রার্থী বাছাইয়ের বিবেচনাও বদলে যেতে পারে। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আলংকারিক হলেও ভবিষ্যতে সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে সেই অবস্থানে পরিবর্তন এলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা ও রাজনৈতিক ভূমিকা নতুনভাবে বিবেচনা করতে হবে।

দলীয় প্রার্থী হলে মির্জা ফখরুলের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়

সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যে আলোচনা চলছে, তাতে দলীয় প্রার্থী হিসেবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তাঁকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে দলের ভেতরের একটি অংশ তৎপর বলেও জানা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের কঠিন সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং দলের বাইরেও গ্রহণযোগ্যতা—এসব বিষয় তাঁর পক্ষে যুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ বিভিন্ন ব্যক্তি প্রকাশ্যে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদের ‘সেরা প্রার্থী’ হিসেবে মত দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে কী পরিবর্তন আসতে পারে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করা হলে দল ও সরকারে একাধিক পরিবর্তন আনতে হবে। তাঁকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব পদেও নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে সংবিধান অনুযায়ী তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হবে। সরকারের মেয়াদের শুরুতেই দলীয় নেতৃত্ব, মন্ত্রিসভা এবং সংসদীয় আসনে একসঙ্গে এই পরিবর্তন আনা হবে কি না, সেটিও বিএনপির সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

আরও যেসব নাম আলোচনায়

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং দল ও সরকারের কোন পর্যায়ে কার ভূমিকা বেশি প্রয়োজন—এসব বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব বিবেচনায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা আগের তুলনায় ছোট হয়ে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও বিএনপির কোনো কোনো পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।

দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকেও প্রার্থী আসতে পারেন

রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী বেছে নেওয়ার পাশাপাশি দলের বাইরে থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার বিকল্পও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে সাবেক একজন প্রধান বিচারপতির নাম আলোচনায় এসেছে।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছিল। তবে সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, নাসিমুল গণির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ।

ফলে শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো নামকেই চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলোর মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করেই আনুষ্ঠানিকভাবে নেওয়া হবে।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে এখনো সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাইছেন না। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন নাম আলোচনায় থাকলেও বিএনপির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এগুলোকে সম্ভাব্যতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আইন অনুযায়ী নির্বাচনের সময়সীমা ও প্রস্তুতি

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত শুক্রবার রাজধানীতে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হবে না। ১৫ জুলাই সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন শেষ হয়েছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসতে হবে।

সরকার আশা করছে, সেই পরবর্তী অধিবেশনেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ফলে নির্বাচন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি।

এদিকে নির্বাচন কমিশনও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: এখন নজর বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে

সব দিক বিবেচনায় আগামী সেপ্টেম্বরে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দলীয় প্রার্থী বেছে নেওয়া হলে এখন পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। পাশাপাশি খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় আছে।

অন্যদিকে, বিএনপির বাইরে থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত হলে সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতি বা গ্রহণযোগ্য অন্য কোনো ব্যক্তির নাম সামনে আসতে পারে। তবে নাসিমুল গণির সম্ভাবনা এখন কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। সংবিধান সংশোধনের সম্ভাব্য পরিবর্তন, রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ ক্ষমতা ও দায়িত্ব এবং দল ও সরকারের অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যাস—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত