এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (14)
এল ক্লাসিকো চলাকালে ব্রাজিল তারকার ৫ কোটি টাকার সম্পদ লুট
Website Feature Image (22)
আলভারেজকে তো পেলই না, উল্টো জরিমানা গুনল বার্সেলোনা
Website Feature Image (3)
ইয়ামাল-এমবাপ্পেকে হতাশ করে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন
News Photocard (15)
এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়ালের এল ক্লাসিকো জয়
News Photocard
আজ কার হাতে উঠবে ব্যালন ডি’অর, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ: রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রস্তাব পেলেও খেলতে নারাজ বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে বিসিবি অনড় অবস্থানে, নিরাপত্তা ও ক্রিকেটার সম্মানকে কেন্দ্র করে ভারত ও আইসিসির মধ্যকার দ্বন্দ্ব তীব্র হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে এই সিদ্ধান্ত এসেছে মূলত ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও মানসিক সম্মানকে কেন্দ্র করে। যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ স্তরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে, তবুও বিসিবির অবস্থান অপরিবর্তিত।

এই সিদ্ধান্তে শুধু ক্রিকেট বোর্ড নয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এবং আইসিসি পর্যন্ত চরম চাপে পড়ে গেছে। ভারতের টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব ও আয়োজক দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বিষয়। তবে বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা যে কোনো আর্থিক লোভের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের পেছনের ৭টি কারণ

১. আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়া
বাংলাদেশের তারকা ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বিসিবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিসিবি মনে করছে, এমন অসম্মানজনক ব্যবহারে ক্রিকেটারদের মানসিক নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা ভারতের মাটিতে খেলার বিষয়ে মানসিকভাবে নিরাপদ বোধ করছে না।

২. ক্রিকেটারদের মানসিক নিরাপত্তা
বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে। সাধারণত কোনো দেশের সরকারপ্রধানদের দেওয়া নিরাপত্তার সমতুল্য প্রোটোকল টাইগারদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে। তবুও বিসিবি মনে করছে, মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ম্যাচে অংশ নেওয়া অনুচিত।

৩. রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রস্তাবও যথেষ্ট নয়
ভারত সরকারের নিরাপত্তা প্রস্তাব অত্যন্ত নজিরবিহীন হলেও বিসিবির মনোভাব অপরিবর্তিত। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকলেও ভারতের মাটিতে ক্রিকেটাররা নিরাপদ বোধ করছে না।

৪. আইসিসির ভূমিকা
আজই বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা। আইসিসির মাধ্যমে ভারতকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তবুও বোর্ডের সিদ্ধান্ত এখনও অনড়।

৫. আর্থিক ক্ষতি এবং চাপ
ভারতের আয়োজক সংস্থা বিসিসিআইয়ের জন্য এই সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে। সম্প্রচার স্বত্ব, টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য ব্যবসায়িক খাত থেকে কোটি কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। তবে বিসিবি মনে করছে, অর্থনৈতিক ক্ষতি থাকলেও ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার তুলনায় তা অগ্রাধিকার পাবে না।

৬. শ্রীলঙ্কায় বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব
বিসিবি ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ভারতের পরিবর্তে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব তারা বিবেচনা করছে। বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের দলের জন্য নিরাপদ নয়।

৭. জাতীয় সমর্থন ও আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ
বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে বিসিবি স্বাভাবিকভাবেই সমর্থন জানিয়েছে। বোর্ড আশা করছে, আইসিসির সঙ্গে আলোচনার পরই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। এই পদক্ষেপ দেশীয় সমর্থক ও ক্রিকেট প্রেমীদের কাছেও সমর্থন পাচ্ছে।

ভারতের প্রস্তাবিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত

ভারত সরকার যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে ক্রিকেটাররা পাবেন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলের মাধ্যমে—

  • সমস্ত ম্যাচের ভেন্যু ঘিরে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা

  • খেলার সময় মাঠের বাইরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে

  • ক্রিকেটারদের হোটেল ও যাতায়াত সুরক্ষিত থাকবে

  • ভারতের উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন

তবুও বিসিবি মনে করছে, এই ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। কারণ নিরাপত্তার পাশাপাশি ক্রিকেটারদের মানসিক নিরাপত্তা ও সম্মানই প্রধান বিষয়।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং আইসিসির ভূমিকা

আইসিসি ইতিমধ্যেই এই সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা আশা করছে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা নয়, ভারতে খেলার সিদ্ধান্তে ফিরে আসবে। তবে বিসিবি এখনও অনড়। আইসিসির অফিসিয়াল বিবৃতি অনুযায়ী, তারা উভয় পক্ষকে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের প্রভাব

বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র খেলার মঞ্চেই প্রভাব ফেলবে না। ভারতীয় ক্রিকেটের অর্থনৈতিক ক্ষতি, আয়োজক সংস্থার চাপ, টিকিট বিক্রি ও সম্প্রচার স্বত্বে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিসিবি মনে করছে, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও সম্মানই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

এছাড়া, দেশীয় ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে বিসিবির এই অবস্থান সমর্থিত। তারা মনে করছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মর্যাদা রক্ষা করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এখন দেখার বিষয়—ভারতের দেওয়া এই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রস্তাবে বিসিবি কি মন গলে খেলে নেবে, নাকি টাইগারদের ম্যাচগুলো শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাতেই অনুষ্ঠিত হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আইসিসি মধ্যস্থতা করবে এবং দুই দেশের বোর্ডের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই অনড় অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি নজির হয়ে থাকবে। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও মানসিক সম্মানকে কেন্দ্র করে নেওয়া এই কঠোর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের ক্রিকেট নীতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সর্বাধিক পঠিত