আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (24)
ইনফান্তিনো কি ৬৪ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবায়ন করতে পারবেন
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দল ঘোষণা করেছে অজিরা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
ক্ষতটা গভীর, শুকাতে সময় লাগবে : খোলা চিঠিতে মেসি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
বিশ্বকাপে কে কী পুরস্কার পেলেন
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
বিশ্বকাপ জিতে কত টাকা পেল স্পেন

বিশ্বকাপে না খেলেও ফিফা থেকে কত কোটি টাকা পাবে বাংলাদেশ?

বিশ্বকাপে না খেলেও ফিফা থেকে কত কোটি টাকা পাবে বাংলাদেশ? FIFA Forward কর্মসূচিতে ২০২৩-২০২৬ চক্রে সর্বোচ্চ ৯৫ কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন সহায়তার সুযোগ বাফুফের।

বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে জায়গা না পেলেও বিশ্বকাপে না খেলেও ফিফা থেকে টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার ‘FIFA Forward’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৩-২০২৬ বিশ্বকাপ চক্রে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ফুটবল উন্নয়নের জন্য সর্বোচ্চ ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯৫ কোটি টাকার বেশি।

ফিফার পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক উন্নয়ন তহবিলের আওতাভুক্ত। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন না করলেও সদস্য দেশগুলোর ফুটবল অবকাঠামো ও উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থ সহায়তা দেওয়ার জন্য ফিফা এই কর্মসূচি পরিচালনা করে।

FIFA Forward কর্মসূচিতে কত টাকা পেতে পারে বাংলাদেশ?

ফিফার নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান বিশ্বকাপ চক্রে প্রতিটি সদস্য দেশ সর্বোচ্চ ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত উন্নয়ন সহায়তার সুযোগ পাচ্ছে।

এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৫ কোটি টাকার বেশি। ফলে বিশ্বকাপে না খেলেও ফিফা থেকে টাকা পাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রমে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে এই অর্থ সরাসরি কোনো শর্ত ছাড়াই দেওয়া হয় না। নির্দিষ্ট প্রকল্প পরিকল্পনা এবং বাজেট জমা দেওয়ার পর অনুমোদনের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা হয়।

ফিফার উন্নয়ন তহবিলের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়?

FIFA Forward কর্মসূচির অর্থ মূলত সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয় করার জন্য বরাদ্দ করা হয়। বাংলাদেশও এই সহায়তা ব্যবহার করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

এই অর্থের একটি অংশ ফেডারেশনের প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল উন্নয়ন প্রকল্পের জন্যও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এর আওতায় থাকতে পারে—

  • প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ
  • যুব ফুটবল একাডেমি পরিচালনা ও উন্নয়ন
  • তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের প্রসার
  • নারী ফুটবলের উন্নয়ন
  • দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল উন্নয়ন প্রকল্প

অর্থাৎ, ফিফার এই সহায়তা শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ কাঠামো শক্তিশালী করার জন্যও এই তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

বিশ্বকাপে না খেলেও ফিফা থেকে টাকা পাওয়ার কারণ কী?

বিশ্বকাপে না খেলেও ফিফা থেকে টাকা পাওয়ার মূল কারণ হলো, ফিফার উন্নয়ন সহায়তা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ওপর নির্ভরশীল নয়। বাংলাদেশ ফিফার পূর্ণ সদস্য হওয়ায় বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এই সহায়তা পাওয়ার যোগ্য।

ফিফার আয়ের বড় অংশ আসে বিশ্বকাপ আয়োজন, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ এবং টিকিট বিক্রি থেকে। সংস্থাটি এসব আয়ের একটি অংশ বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করে থাকে।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এবং অংশ না নেওয়া—উভয় ধরনের সদস্য দেশই নিজেদের ফুটবল উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পায়।

প্রকল্প অনুমোদনের পর ধাপে ধাপে অর্থ ছাড়

ফিফার অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনকে উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং বাজেট জমা দিতে হয়।

এরপর সেই পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করা হয়। অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম মানতে হয়।

এতে অর্থের ব্যবহার নির্দিষ্ট প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকে। একই সঙ্গে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত অডিট এবং নজরদারির ব্যবস্থাও রয়েছে।

ফলে ফিফার উন্নয়ন তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার বিষয়টি শুধু বরাদ্দ পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্প পরিকল্পনা, অনুমোদন, অর্থ ছাড় এবং ব্যবহারের ওপরও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ থাকে।

বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে এই সহায়তার গুরুত্ব

বাংলাদেশের ফুটবলে অবকাঠামো, যুব পর্যায়ের প্রশিক্ষণ এবং তৃণমূল উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফিফার উন্নয়ন সহায়তা এসব খাতে কাজ করার জন্য বাফুফেকে আর্থিক সুযোগ দেয়।

বিশেষ করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যুব একাডেমি এবং নারী ফুটবলের প্রসারে পরিকল্পিতভাবে অর্থ ব্যয় করা হলে দেশের ফুটবলের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে ফিফার বরাদ্দকৃত অর্থ নির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ব্যবহার করতে হয়। তাই পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং অর্থ ব্যবহারে নিয়ম মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

FIFA Forward কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের সুযোগ

ফিফার ২১১ সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নে এই ধরনের আর্থিক সহায়তা বৈশ্বিক ফুটবলের কাঠামোকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই দেওয়া হয়। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ না পেলেও সদস্য দেশগুলো যাতে নিজেদের ফুটবল ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করাই এই কর্মসূচির অন্যতম দিক।

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নয়, উন্নয়নেও গুরুত্ব

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে জায়গা না পেলেও ফিফার পূর্ণ সদস্য হিসেবে উন্নয়ন তহবিল পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ২০২৩-২০২৬ বিশ্বকাপ চক্রে সর্বোচ্চ ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৫ কোটি টাকার বেশি সহায়তার সুযোগ রয়েছে।

এই অর্থ প্রশাসনিক ব্যয়ের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যুব ফুটবল, তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন এবং নারী ফুটবলের প্রসারে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাজেট অনুমোদন এবং নিয়মিত অডিটের মাধ্যমে অর্থ ব্যবহারের প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারলেও ফিফার সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। দেশের ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সর্বাধিক পঠিত