এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (22)
পদ্মায় নৌকাডুবির ২০ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি বাবা-ছেলের
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
অর্ধশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষককে শোকজ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
ত্রিমুখী চাপে বেকায়দায় জামায়াত
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনালাপ নিয়ে ফেসবুকে যা বললেন আনোয়ার ইব্রাহিম
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (15)
বিশ্বকাপে ভুল সংবাদ দিয়ে শীর্ষ ৩-এ যেসব গণমাধ্যম

আগস্টে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, মির্জা ফখরুলকে নিয়েই সব আলোচনা

আগস্টে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, মির্জা ফখরুলকে নিয়েই সব আলোচনা, নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী আগস্ট মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সরকার–সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রস্তুতি ও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা

সরকার–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা না করেও আয়োজন করা সম্ভব। সেই বিবেচনায় আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নিয়মিত বা বিশেষ সংসদ অধিবেশন বাধ্যতামূলক নয়। সংসদ অধিবেশন না থাকলেও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করা যায়।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: কেন আলোচনায় মির্জা ফখরুল?

বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চললেও বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

দলীয় সূত্র বলছে, কয়েকটি বিষয় তাঁর পক্ষে বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • এক যুগের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন।
  • কঠিন রাজনৈতিক সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ভূমিকা।
  • পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি।
  • দলীয় গণ্ডির বাইরেও গ্রহণযোগ্যতা।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রকাশ্যে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে মত দিয়েছেন।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটি এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি।

কী বললেন মির্জা ফখরুল?

গত শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি বাইরের কাউকে প্রার্থী করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে।

অর্থাৎ সম্ভাব্য প্রার্থীর বিষয়ে আলোচনা থাকলেও দলীয়ভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে হবে?

বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় স্থায়ী কমিটির আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীর বিষয়ে এখনই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি নন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে কী পরিবর্তন আসতে পারে?

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যদি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তাহলে কয়েকটি সাংগঠনিক পরিবর্তন প্রয়োজন হবে।

সেক্ষেত্রে—

  • তাঁকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে।
  • বিএনপির মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব আনতে হবে।
  • সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হবে।
  • ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি

এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

ইসি ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছে।

সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা পাওয়ার পর তফসিল ঘোষণা করা হবে।

একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং তাহমিদা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবিধানিক সময়সীমা

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে। তবে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে আগস্ট মাসেই নির্বাচন আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির ভেতরে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকলেও দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত