আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (21)
গোপনে মস্কো সফরে কেন সিআইএ প্রধান, যা বললেন ট্রাম্প
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
কেন এতো পর্যটক ছিল নেপালের ওই এলাকায়
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
চীনা পণ্য ও মার্কিন নীতি: ট্রান্সশিপমেন্টকে ‘প্রতারণা’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র, নজরে সিঙ্গাপুর
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (27)
ইরানকে নিষেধাজ্ঞায় শাসনব্যবস্থার পতন হবে না, মার্কিন কৌশল নিয়ে সতর্কবার্তা

নেপালে ৩৪১ পর্যটক নিখোঁজ, কোন দেশের কত জন

নেপালে ৩৪১ পর্যটক নিখোঁজ এই তথ্য সামনে এসেছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন তালিকায়।

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের পর ৩৪১ জন বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর মোট অন্তত ৪০৩ জন পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। ফলে দুর্যোগের পর বিদেশি পর্যটকদের নিখোঁজের বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের সবচেয়ে বড় অংশ ভারতের নাগরিক। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও কানাডার নাগরিকদের নামও রয়েছে।

কোন দেশের কত জন নিখোঁজ

নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৩৪১ পর্যটক নিখোঁজের ঘটনায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। দেশভিত্তিক যে সংখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা হলো—

  • ভারতীয় নাগরিক: ১৪২ জন
  • ব্রিটিশ নাগরিক: ৩৩ জন
  • মার্কিন নাগরিক: ৪৭ জন
  • অস্ট্রেলীয় নাগরিক: ৩৪ জন
  • কানাডীয় নাগরিক: ২৪ জন
  • মালয়েশীয় নাগরিক: ১৭ জন
  • ব্রিটিশ নাগরিক: ১২ জন
  • দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক: ৪ জন

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া ও পর্তুগালের নাগরিকও নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ৯ নাগরিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। সরবরাহ করা তথ্যে ব্রিটিশ নাগরিকের সংখ্যা দুইভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—এক জায়গায় ৩৩ জন এবং অন্য জায়গায় ১২ জন। একইভাবে মালয়েশিয়ার নাগরিকের সংখ্যা ১৭ জন হিসেবে দেওয়া হলেও পরের অংশে আবার দেশটির নাম এসেছে। তাই সংখ্যাগুলোকে উৎসে যেভাবে দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই তুলে ধরা হলো।

নেপালে ৩৪১ পর্যটক নিখোঁজের তালিকায় সবচেয়ে বেশি ভারতীয়

নেপাল পর্যটন বোর্ডের দেওয়া হিসাবে ভারতীয় নাগরিকরাই নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ। মোট ১৪২ জন ভারতীয় পর্যটকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।

এরপর মার্কিন নাগরিক ৪৭ জন, অস্ট্রেলীয় ৩৪ জন এবং ব্রিটিশ ৩৩ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কানাডার ২৪ নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক দেশের নাগরিক এই নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন।

নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৪০৩ জন পর্যটকের সন্ধান না পাওয়ার মধ্যে বিদেশিদের সংখ্যা ৩৪১। অর্থাৎ নিখোঁজ পর্যটকদের বড় একটি অংশ বিদেশি নাগরিক।

আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজ পর্যটক

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর পর্যটকদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ড নিখোঁজ বিদেশিদের জাতীয়তা অনুযায়ী তথ্য প্রকাশ করেছে। এর ফলে কোন দেশের কতজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

তবে সব নিখোঁজ ব্যক্তির জাতীয়তা বা পরিচয় সম্পর্কে একই মাত্রায় তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগালসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ৯ নাগরিকের সন্ধান নেই

নিখোঁজদের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের বিষয়টিও সামনে এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির ৯ নাগরিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

এ তথ্য নেপালে চলমান দুর্যোগের আন্তর্জাতিক প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরে। কারণ নিখোঁজ পর্যটকদের তালিকায় এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ৯ জনের সংখ্যাটি নেপাল পর্যটন বোর্ডের তালিকায় উল্লেখ করা সংখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। তাই বিভিন্ন সরকারি সংস্থার তথ্যের মধ্যে সংখ্যাগত পার্থক্য থাকলে তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নেপালে ৩৪১ পর্যটক নিখোঁজ নিয়ে কেন উদ্বেগ

নেপাল একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় দেশটিতে বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নেপাল পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৪০৩ জন পর্যটকের সন্ধান না পাওয়ার তথ্য এবং তাঁদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি—এই দুই সংখ্যা পরিস্থিতির ব্যাপকতা বোঝায়।

বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা ১৪২ হওয়ায় নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় ভারতের অংশ সবচেয়ে বড়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার নাগরিকদের নিখোঁজ থাকার তথ্যও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, নেপালের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর বহু বিদেশি পর্যটকের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

নেপাল পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য

নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য এই নিখোঁজের হিসাব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পর্যটন বোর্ড বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সংখ্যা আলাদাভাবে জানিয়েছে।

তবে উৎস প্রতিবেদনে দেওয়া সংখ্যাগুলোর মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই নেপালে ৩৪১ পর্যটক নিখোঁজের তথ্য তুলে ধরার সময় কোন সংখ্যা কোন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এসেছে, সেটি বিবেচনা করা জরুরি।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যও নেপাল পর্যটন বোর্ডের হিসাবের ভিত্তিতে পরিস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরে। [নেপালে ৩৪১ পর্যটক নিখোঁজ] বিষয়ে বিস্তারিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন দ্য গার্ডিয়ানে পাওয়া যাবে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর মোট ৪০৩ জন পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। ভারতীয়দের সংখ্যা ১৪২ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদেরও নিখোঁজের তালিকায় রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশটির ৯ নাগরিকের সন্ধান নেই। এছাড়া নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগালসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নেপালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর বিদেশি পর্যটকদের নিখোঁজের ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। নেপাল পর্যটন মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বোর্ডের দেওয়া তথ্যই বর্তমানে এই পরিস্থিতির পরিসর বোঝার প্রধান ভিত্তি।

সর্বাধিক পঠিত