এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (2)
দাম আরো কমে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা
News Photocard (27)
৫ প্রতিষ্ঠান থেকে এলএনজি ক্রয় প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন
News Photocard (13)
আমদানি বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, আরো সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
News Photocard (3)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি যত
News Photocard (4)
কমল সোনার দাম, ভরি কত

২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ

২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়াবে বাংলাদেশ, অর্থনীতি ২০৩০ সালে ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। আইএমএফের পূর্বাভাসে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে ছাড়ানোর সম্ভাবনা উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশের অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কানাডার সংবাদমাধ্যম ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের ‘দ্য ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার গ্লোবাল ইকোনমি ইন ২০৩০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’-এর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী চার বছরে বিশ্ব অর্থনীতির আকার আরও বাড়বে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির আকার ১৫০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই প্রবৃদ্ধিতে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর বড় ভূমিকা থাকবে।

আইএমএফের World Economic Outlook ডেটাবেসে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, জাতীয় হিসাব ও অন্যান্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের তথ্য ও পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০৩০: এশিয়ার প্রতিযোগিতায় নতুন অবস্থান

 

প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জিডিপি ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই আকারের অর্থনীতি হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে এখানে হিসাবটি করা হচ্ছে নামমাত্র জিডিপি বা বর্তমান মূল্যে মোট দেশজ উৎপাদনের ভিত্তিতে। অর্থনীতির আকার তুলনায় নামমাত্র জিডিপি এবং ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি—দুটি ভিন্ন মাপকাঠি। তাই এই পূর্বাভাসকে নির্দিষ্ট সময়ের অর্থনৈতিক আকারের একটি প্রক্ষেপণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০৩০ নিয়ে এই পূর্বাভাস মূলত আগামী কয়েক বছরের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে। আইএমএফের WEO ডেটাবেসে প্রকাশিত পূর্বাভাসগুলো নিয়মিত হালনাগাদ ও সংশোধিত হতে পারে।

২০৩০ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে শীর্ষে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় দেশটির নামমাত্র জিডিপি ৩৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে চীন। দেশটির সম্ভাব্য জিডিপি হতে পারে ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

তৃতীয় অবস্থানে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে জার্মানির। ২০৩০ সালে দেশটির অর্থনীতির আকার ৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির সম্মিলিত অর্থনীতি ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়তে পারে। এই বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকবে চীনের।

জার্মানি ও ভারতের ব্যবধান মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দৌড়েও বড় ধরনের প্রতিযোগিতা দেখা যেতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে জার্মানির সম্ভাব্য জিডিপি হবে ৬ দশমিক ১৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ভারতের সম্ভাব্য জিডিপি হতে পারে ৬ দশমিক ১৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ দুই দেশের সম্ভাব্য অর্থনীতির ব্যবধান মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে নামমাত্র জিডিপির হিসাবে ভারত জার্মানিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি অনুযায়ী হিসাব করলে ভারত ইতিমধ্যে জার্মানির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বড় অর্থনীতি।

এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি আরও বাড়ার পূর্বাভাস

২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন ৫৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এটি ওই সময়ের বৈশ্বিক অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশের বেশি হবে।

এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে থাকবে জাপান। দেশটির জিডিপি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

এরপর থাকবে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। ২০৩০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য জিডিপি ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে।

এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তির এই পরিবর্তনের পেছনে বিভিন্ন দেশের প্রবৃদ্ধির ধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পূর্বাভাসে প্রতিফলিত হয়েছে।

জাপানের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন

একসময় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ছিল জাপান। তবে কয়েক দশক ধরে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়েছে।

২০১০ সালে চীন জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে ওঠে। এরপর ২০২৪ সালে জার্মানিও জাপানকে ছাড়িয়ে যায়।

২০৩০ সালের পূর্বাভাসেও এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলোর তালিকায় জাপান গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও চীন ও ভারতের তুলনায় দেশটির অর্থনীতির আকার ছোট থাকবে।

ইউরোপের সম্মিলিত অর্থনীতি ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে ইউরোপের সম্মিলিত অর্থনীতির আকার ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সে সময় বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ইউরোপের দখলে থাকতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত নামমাত্র জিডিপি ২৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

ইইউর মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হবে জার্মানি। এরপর থাকবে ফ্রান্স ও ইতালি। দেশগুলোর সম্ভাব্য জিডিপি যথাক্রমে ৬ দশমিক ২, ৪ ও ৩ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে।

ইইউর বাইরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হিসেবে থাকবে যুক্তরাজ্য। ২০৩০ সালে দেশটির সম্ভাব্য জিডিপি ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার।

এরপর থাকবে রাশিয়া। দেশটির অর্থনীতির আকার ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার অর্থনীতিতে সংকোচনের আশঙ্কা

২০৩০ সালের বৈশ্বিক অর্থনীতির পূর্বাভাসে রাশিয়ার জন্য একটি ভিন্ন চিত্রও উঠে এসেছে। ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রাশিয়া এমন কয়েকটি দেশের একটি হতে পারে, যাদের অর্থনীতি ওই সময়ে সংকোচনের মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, একই সময়ে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর সম্মিলিত প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। এই হিসাব বাস্তবায়িত হলে নামমাত্র জিডিপির আকারে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তবে এটি একটি পূর্বাভাস, চূড়ান্ত ফল নয়। অর্থনীতির বাস্তব আকার ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে। আইএমএফের WEO ডেটাবেসে প্রকাশিত প্রক্ষেপণও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০৩০ সালে ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে নামমাত্র জিডিপির আকারে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

একই সময়ে এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বৈশ্বিক অর্থনীতির শীর্ষ দুই অবস্থান ধরে রাখবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, আর জার্মানি ও ভারতের মধ্যে তৃতীয় অবস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা খুব কাছাকাছি থাকবে।

সব মিলিয়ে ২০৩০ সালের বৈশ্বিক অর্থনীতির পূর্বাভাসে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর গুরুত্ব বাড়ার একটি চিত্র পাওয়া যায়, যেখানে বাংলাদেশের জন্যও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার ইঙ্গিত।

সর্বাধিক পঠিত