নেপালের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন দেশে ফিরে। ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস ও ভূমিকম্পের পরিস্থিতিতে ‘শিকার’ টিম কীভাবে নিরাপদে ফিরল, জানুন বিস্তারিত।
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিকম্পের কারণে তৈরি হওয়া দুর্যোগময় পরিস্থিতির মধ্যে নতুন সিনেমা ‘শিকার’-এর শুটিং শেষ করে বাংলাদেশে ফিরেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, পুরো টিম নিরাপদেই ছিল। তবে সবাইকে একসঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল।
নেপালে শুটিং চলাকালে টানা বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এমন পরিস্থিতিতে শুটিং দ্রুত শেষ করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় ‘শিকার’ সিনেমার টিম।
নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং
কামরুজ্জামান রোমানের পরিচালনায় নির্মিত ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে নেপালে গিয়েছিলেন অপু বিশ্বাসসহ বাংলাদেশ ও কলকাতার একাধিক শিল্পী। পাহাড়ি অঞ্চলের মনোরম পরিবেশে সিনেমাটির কাজ চলছিল।
তবে শুটিংয়ের মধ্যেই নেপালের আবহাওয়ার পরিস্থিতি বদলে যায়। বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা দেখা দেয়। কোথাও সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, আবার কোথাও ভূমিধসের কারণে যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
এতে শুটিং টিমের সামনে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিরাপদে সবাইকে দেশে ফেরানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অপু বিশ্বাসের নেপাল অভিজ্ঞতা ছিল কঠিন

অপু বিশ্বাসের নেপাল অভিজ্ঞতা সম্পর্কে দেশে ফিরে অভিনেত্রী বলেন, নেপালে অবস্থানকালে তারা বড় ধরনের কোনো সমস্যায় পড়েননি। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
অপু বিশ্বাসের বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো টিম নিরাপদে থাকলেও সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার বিষয়টি সহজ ছিল না। কারণ দুর্যোগের কারণে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছিল।
শুটিং শেষ করার পর দ্রুত দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর শুক্রবার রাতে বাংলাদেশে পৌঁছান অপু বিশ্বাস ও ‘শিকার’ সিনেমার সংশ্লিষ্টরা।
বন্যা ও ভূমিধসে বদলে যায় পরিস্থিতি
নেপালের বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টির পর বন্যা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত কঠিন হয়ে ওঠে। কোথাও পানিতে সড়ক ডুবে যায়। আবার ভূমিধসের কারণে কোথাও যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
এই অবস্থায় একটি শুটিং টিমের জন্য নির্ধারিত কাজ শেষ করে নিরাপদে দেশে ফেরাটিও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে শেষ পর্যন্ত ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং শেষ করা সম্ভব হয় এবং টিম বাংলাদেশে ফিরে আসে।
নেপালের সাম্প্রতিক দুর্যোগ নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেশটির বন্যা ও ভূমিধসের ভয়াবহতার কথাও উঠে এসেছে।
দুর্যোগ নিয়ে যা বললেন অপু বিশ্বাস
দেশে ফিরে দুর্যোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টের। তার ভাষায়, হতাহতরা ব্যক্তিগতভাবে তার আপনজন না হলেও তারা তার এবং সবারই আপন।
তিনি আরও বলেন, বড় ধরনের ক্ষতির শিকার যারা হয়েছেন, তারাই আসলে সেই কষ্টের গভীরতা সবচেয়ে ভালোভাবে বলতে পারবেন। নেপালে থাকার সময় স্থানীয় মানুষের কথা শোনা এবং তাদের আহাজারি নিজের চোখে দেখার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
অপু বিশ্বাসের বক্তব্যে উঠে আসে দুর্যোগের মানবিক দিকটিও। শুধু নিজেরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরেছেন—এটুকুতেই তিনি সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কষ্টের কথাও তুলে ধরেছেন।
তার মতে, নেপালের এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও মানুষের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
নিরাপদে দেশে ফেরাই ছিল বড় স্বস্তি
নেপালে থাকা অবস্থায় বড় কোনো সমস্যায় না পড়লেও পুরো টিমকে নিয়ে দেশে ফেরার প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন অপু বিশ্বাস। বিশেষ করে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকতে হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়। এরপর নিরাপদে বাংলাদেশে ফেরেন অপু বিশ্বাস।
অভিনেত্রীর বক্তব্যে একই সঙ্গে স্বস্তি ও দুঃখ—দুই ধরনের অনুভূতিই প্রকাশ পেয়েছে। একদিকে নিজেরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরেছেন, অন্যদিকে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা তাকে ব্যথিত করেছে।
‘শিকার’ টিমের নেপাল সফরের সমাপ্তি
‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য নেপালে যাওয়া বাংলাদেশ ও কলকাতার শিল্পীদের জন্য সফরটি শেষ পর্যন্ত একটি কঠিন অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। শুরুতে পাহাড়ি পরিবেশে শুটিং চললেও পরে বৈরী আবহাওয়া এবং দুর্যোগ পরিস্থিতির কারণে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়।
দ্রুত শুটিং শেষ করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় টিম। শুক্রবার রাতে ঢাকায় ফিরে সেই অভিজ্ঞতার কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন অপু বিশ্বাস।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো টিম নিরাপদে দেশে ফিরতে পারায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে নেপালের মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও কষ্টের কথা স্মরণ করে তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
নেপালের দুর্যোগ নিয়ে আরও তথ্য
এই দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে অপু বিশ্বাসের অভিজ্ঞতাও ঘটনাটির একটি মানবিক দিক তুলে ধরে। শুটিংয়ের কাজে নেপালে থাকা অবস্থায় তিনি ও তার সহকর্মীরা পরিস্থিতির কাছাকাছি ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।
নেপালে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং শেষ করে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন অপু বিশ্বাস। দেশে ফিরে তিনি জানিয়েছেন, টিম বড় কোনো সমস্যায় না পড়লেও সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে ফেরার বিষয়টি ছিল চ্যালেঞ্জিং।
অন্যদিকে নেপালের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। নিজের চোখে স্থানীয়দের আহাজারি দেখা এবং তাদের কথা শোনার অভিজ্ঞতা তিনি ভাষায় প্রকাশ করাও কঠিন বলে জানিয়েছেন। ফলে অপু বিশ্বাসের নেপাল অভিজ্ঞতা শুধু একটি শুটিং সফরের বিবরণ নয়, বরং একটি ভয়াবহ দুর্যোগের মানবিক চিত্রও তুলে ধরেছে।





