এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (30)
২০২৬ সালের প্রাদেশিক উপনির্বাচন: অন্টারিও এনডিপির হয়ে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি ধরে রাখলেন শাবান
News Photocard (27)
নতুন দায়িত্ব পেলেন মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
News Photocard (9)
বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সীমিত করল মালয়েশিয়া
News Photocard (16)
প্রধানমন্ত্রী এখনো এক-এগারোর নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন, প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন
News Photocard (9)
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ‘বিরোধী দল দমনের চক্রান্ত ও ফ্যাসিবাদী পথ’: বিবৃতিতে নাহিদ-আখতার

পে স্কেল বাস্তবায়নে বাড়তি টাকার সংস্থান যেভাবে

পে স্কেল বাস্তবায়নে বাড়তি টাকার সংস্থান যেভাবে, নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬-এর গেজেট রবিবার জারি হতে পারে। বিজি প্রেসে খসড়া পাঠানো হয়েছে, বাকি আনুষ্ঠানিক ধাপ শেষে শুরু হবে বাস্তবায়ন।

নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ এখন শেষ পর্যায়ে। অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানিয়েছেন, আগামী রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি রয়েছে। ইতিমধ্যে পে স্কেলের খসড়া বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আইনগত কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

গত সোমবার মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদনের পর নতুন বেতনকাঠামো চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এখন প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা।

নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬ কেন আলোচনায়

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বিষয়টি এখন গেজেট প্রকাশের পর্যায়ে এসেছে।

প্রথমে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি। তবে নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগছে। ফলে বৃহস্পতিবারের পরিবর্তে আগামী রবিবারকে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এদিকে খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানো হওয়ায় প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়াটি কার্যত শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ধাপ শেষ করতে হবে।

প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে যেসব ধাপ বাকি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিজি প্রেসে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর খসড়াটি আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে।

এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করা হবে। প্রয়োজনীয় এসআরও নম্বর পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।

অর্থাৎ, খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানো হলেও গেজেট প্রকাশের জন্য প্রক্রিয়াটি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬-এর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

অর্থ বিভাগের বিভিন্ন বেতন ও প্রজ্ঞাপনসংক্রান্ত তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়।

বাড়তি অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান। নতুন বেতনকাঠামোর ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাড়বে। তাই সরকারের নিয়মিত ব্যয়ের পরিমাণও বাড়বে।

তবে সরকারের বক্তব্য, এই বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি হঠাৎ করে সামনে আসেনি। সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয় আগে থেকেই মধ্যমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনা বা এমটিবিএফে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সরকার শুধু একটি অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব করে না। বরং আগামী কয়েক বছরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের একটি আগাম হিসাব করা হয়। নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য ব্যয়ও সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

এর অর্থ হলো, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে আগামী বছরগুলোতে যে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হতে পারে, তার জন্য আর্থিক পরিকল্পনায় আগেই জায়গা রাখা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

একদিকে বেতন বাড়বে, অন্যদিকে স্থায়ী ব্যয়ও বাড়বে

নতুন বেতনকাঠামো চালু হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারের নিয়মিত ও স্থায়ী ব্যয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

একবার বেতনকাঠামো বাড়লে সেটি সরকারের স্থায়ী ব্যয়ের অংশ হয়ে যায়। ফলে শুধু নতুন পে স্কেল চালুর সময়ের অর্থের ব্যবস্থা করলেই হবে না; পরবর্তী বছরগুলোতেও এই ব্যয় বহনের সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে।

এই বাস্তবতায় রাজস্ব আদায় বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সামগ্রিক বাজেট ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন বেতনকাঠামো সরকারি কর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে এর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রভাবও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নে পরবর্তী পদক্ষেপ

রবিবার প্রজ্ঞাপন জারি হলে নতুন বেতনকাঠামোর বিস্তারিত বিধান স্পষ্ট হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ এবং বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের কাজ করতে হবে।

এ ছাড়া বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশাসনিক কার্যক্রমও এগিয়ে নিতে হবে। অর্থাৎ, গেজেট প্রকাশের পরই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে না; বরং নতুন কাঠামো কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে আরও কিছু প্রশাসনিক কাজ করতে হবে।

বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজর তাই ৬ সেপ্টেম্বরের দিকে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ হলে ওই দিন নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ হতে পারে।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় আগাম প্রস্তুতি

নতুন পে স্কেল নিয়ে বাড়তি অর্থের প্রয়োজনকে সরকার মধ্যমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছে বলে জানিয়েছেন নাসিমুল গনি।

এ ধরনের আগাম হিসাবের মূল বিষয় হলো ভবিষ্যৎ কয়েক বছরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের মধ্যে নতুন ব্যয়ের প্রভাব বিবেচনা করা। ফলে পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান বছরের বাজেট নয়, পরবর্তী বছরগুলোর আর্থিক দায়ও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে বলে সরকারের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

তবে বাস্তবায়নের পর নিয়মিত ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব আয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও বাড়বে। নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করাই হবে পরবর্তী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নবম জাতীয় পে স্কেল এখন বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে এবং এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও এসআরও নম্বর পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা।

ফলে আগামী রবিবারের সম্ভাব্য প্রজ্ঞাপন প্রকাশকে নতুন বেতনকাঠামোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গেজেট প্রকাশের পর বেতন নির্ধারণ, ভাতা সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপগুলো স্পষ্ট হবে।

নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬-এর খসড়া ইতিমধ্যে বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ও প্রয়োজনীয় এসআরও নম্বর পাওয়ার মতো আনুষ্ঠানিক ধাপ শেষ হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।

অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী রবিবার প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি রয়েছে। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতনকাঠামোর বিস্তারিত বিধান আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।

পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্য বাড়তি ব্যয় নিয়ে সরকার জানিয়েছে, তা মধ্যমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনায় আগেই বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর ফলে স্থায়ী ব্যয় বাড়বে বলে রাজস্ব আদায় ও বাজেট ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব বাড়বে। এখন ৬ সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য প্রজ্ঞাপন প্রকাশের দিকেই নজর রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত