জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বৈঠক করবেন বিশ্বনেতাদের সঙ্গে এবং তুলে ধরবেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন।
চলতি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং এর সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ও ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য হলো ‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শুরু ২১ সেপ্টেম্বর

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই সময়কে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জন্য অত্যন্ত ব্যস্ত কর্মসূচির সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরাই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সরকারের পরিকল্পনা এবং দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান—সেই ভিশন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরবেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির সরকার গঠনের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে আসতে পারে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের ভাবনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুও গুরুত্ব পেতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বশান্তি, টেকসই সমাধান এবং সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা তৈরির বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
এ ছাড়া বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ, জলবায়ু নিরাপত্তা এবং জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্থান পেতে পারে বলে জানান হুমায়ুন কবির।
অর্থাৎ, জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তি, জলবায়ু এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে এই সফরে।
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকেও গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তবে কার কার সঙ্গে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হুমায়ুন কবির বলেন, বহুপক্ষীয় ফোরামে এ ধরনের বৈঠকের সূচি অনেক সময় শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হয়।
ফলে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকালে সম্ভাব্য বৈঠকগুলোর তালিকা ও সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের একসঙ্গে নিয়ে আসে। এবারের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করবে—এমনটাই সফরের ঘোষিত কর্মসূচি থেকে প্রতীয়মান হয়।
তবে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নেতা বা প্রতিনিধির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য দেননি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তাই অনুমোদিত সূচি প্রকাশের আগে কোনো নির্দিষ্ট বৈঠককে নিশ্চিত হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।
জলবায়ু ও বিশ্বশান্তির বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু নিরাপত্তা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এই বিষয় আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
এর পাশাপাশি বিশ্বশান্তি ও সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও তুলে ধরার কথা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি ও টেকসই সমাধানের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থানও তুলে ধরা হবে।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের ঘোষিত কর্মসূচিতে জলবায়ু, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।
দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নীতিগত উদ্যোগও আলোচনায়
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভাষণের বিষয়বস্তুর মধ্যে দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা তৈরি এবং বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এর মাধ্যমে জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের উন্নয়ন-ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত ভাষণের পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন বিষয় কতটা গুরুত্ব পাবে, তা তাঁর বক্তব্য ও চূড়ান্ত কর্মসূচি প্রকাশের পর আরও স্পষ্ট হবে।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে বাংলাদেশের অবস্থান
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের খালিলুর রহমান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২ জুন ২০২৬-এ ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।
এই অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা নিজেদের দেশের অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরবেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একটি বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় মঞ্চ।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও এই মঞ্চে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক শান্তি, সংঘাত নিরসন, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং জলবায়ু নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সফরের সময়সূচি ও পরবর্তী ঘোষণা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ কর্মসূচির বিস্তারিত পরে জানানো হবে। আপাতত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে অবস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও সফরের অন্যতম অংশ হলেও কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। বহুপক্ষীয় সম্মেলনের সাইডলাইন বৈঠক অনেক সময় শেষ মুহূর্তে নির্ধারিত হওয়ায় পরবর্তী সময়ে কর্মসূচিতে নতুন তথ্য যুক্ত হতে পারে।
সফরের মূল কর্মসূচিতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা ভাগ করে নেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি, সংঘাত নিরসন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, জলবায়ু নিরাপত্তা ও জলবায়ু অর্থায়নের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।





