হুতি–সৌদির সংঘাতে ট্রাম্প কি নতুন বিপদে পড়ছেন, বাব আল-মানদেব ঘিরে হামলা, তেলপথের ঝুঁকি ও ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পকে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী কয়েক দিন ধরে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরের কৌশলগত জলপথ বাব আল-মানদেব ঘিরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দাবি করছে। এতে সৌদি আরবের নিরাপত্তার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হুতি–সৌদি সংঘাত ওয়াশিংটনের জন্য এখন আর সহজে উপেক্ষা করার মতো কোনো আলাদা ঘটনা নয়।
গত শুক্রবার হুতিরা লোহিত সাগরে পুরো ইয়েমেন উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলের কথাও জানায় তারা। বাব আল-মানদেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
বাব আল-মানদেব কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
বাব আল-মানদেব প্রণালি আরব সাগর ও এডেন উপসাগর হয়ে লোহিত সাগরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে এই সরু জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত।
হরমুজে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিকল্প বাণিজ্যিক পথ হিসেবে বাব আল-মানদেবের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে সৌদি আরবের জন্য নিজেদের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে এই পথ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ফলে হুতি–সৌদি সংঘাত এখন শুধু ইয়েমেন বা সৌদি আরবের সীমিত সামরিক বিরোধের মধ্যে আটকে নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রশ্ন।
হুতি–সৌদি সংঘাতের পেছনে কী আছে
ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করা হুতিরা দীর্ঘদিন ধরে সামরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ২০১৪ সালে তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে। এর পর ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বে হুতিবিরোধী সামরিক অভিযান শুরু হয়।
সেই অভিযান ইয়েমেনের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধকে আরও তীব্র করে। এতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হন এবং দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়।
২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গাজায় হামাসের সমর্থনে বাব আল-মানদেব দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালিয়েও হুতিরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসে।
হুতিদের সামরিক সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যাধুনিক ড্রোন এবং বিস্ফোরকবোঝাই স্পিডবোট। সমুদ্রে মাইন পেতে রেখে বাব আল-মানদেবের নৌ চলাচলও ব্যাহত করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
সৌদি আরব কেন হুতিদের লক্ষ্য
সাম্প্রতিক হামলার ক্ষেত্রে হুতিরা ইরানের সমর্থনের কথা বলেছে। সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা বেড়েছে। হুতিদের দৃষ্টিতে বর্তমান পরিস্থিতি তাদের পুরোনো দাবিগুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে।
ইয়েমেনে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত এডমুন্ড ফিটন-ব্রাউন মনে করেন, হুতিরা হয়তো মনে করছে সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়ানোর এটাই উপযুক্ত সময়। তাঁর মতে, হুতিরা সৌদি আরবের আগের অবস্থানের তুলনায় আরও সুবিধাজনক শর্ত আদায় করতে চাইছে এবং প্রতিপক্ষকে তা মেনে নিতে বাধ্য করার সুযোগ দেখছে।
সৌদি আরব অবশ্য বহু বছর ধরে হুতিদের দমন এবং ২০১৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সামরিকভাবে সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত হুতিদের লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে চাপ সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখা যায়নি।
ট্রাম্পের আগের সামরিক অভিযান কেন গুরুত্বপূর্ণ

২০২৫ সালে লোহিত সাগর যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনার এলাকায় পরিণত হয়েছিল। ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষশক্তি’র অংশ হিসেবে তখন হুতিরা আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছিল।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ নামে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেন। অভিযানে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয় এবং ইয়েমেনে আট শতাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়।
অভিযানের লক্ষ্য ছিল হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, ড্রোন এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয় ও আধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহারের পরও অভিযানটি প্রত্যাশিত কৌশলগত ফল অর্জন করতে পারেনি।
হুতিদের সামরিক সক্ষমতার ওপর এর বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি এবং ইরানের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে তারা টিকে থাকার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে হামলা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এর ফলে মার্কিন সামুদ্রিক আধিপত্যের ওপরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। এমনকি মার্কিন যুদ্ধজাহাজও একাধিকবার হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
এরপর ওই বছরের ৬ মে ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে ইসরায়েলকে এড়িয়ে হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এতে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমে আসে।
কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হুতিরা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।
আঞ্চলিক সংঘাতের দ্বিতীয় ফ্রন্ট
চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো লিন্ডসে নিউম্যানের মতে, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান বৃহত্তর সংঘাতের অংশ।
তিনি মনে করেন, বড় প্রশ্ন হলো—ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনো কতটা প্রতিরোধক্ষমতা ধরে রেখেছে। হামাস ও হিজবুল্লাহর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা গেলেও হুতিদের সামরিক শাখাকে ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
এখানে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই চুক্তিতে হুতিদের বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি।
ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই ওয়াশিংটন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থনের বিষয়টি আলোচনায় আনার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু এখন বাব আল-মানদেব ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় সেই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি লোহিত সাগর এবং সৌদি আরবের ওপর হুতিদের তৈরি করা হুমকিকে উপেক্ষা করে, তাহলে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্যই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সৌদি আরবের সামনে কূটনীতি না পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ হুতিদের হামলার নিন্দা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, কূটনীতির পথ এখনো বন্ধ হয়নি।
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সৌদি আরব নিজেদের এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় পিছপা হবে না। নিজেদের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সব উপায় ব্যবহারের কথাও তিনি বলেছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডও হুতিদের ‘শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা’ করার অঙ্গীকার করেছে।
তবে সৌদি বিশ্লেষক আলী শিহাবি হুতিদের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, সৌদি আরব বুঝতে পেরেছে যে হুতিরা যুক্তিসংগত আচরণ করছে না এবং রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুব কম।
অন্যদিকে এডমুন্ড ফিটন-ব্রাউনের মতে, সৌদি আরব পাল্টা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। হুতিদের আগ্রাসন মোকাবিলায় তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তারা একটি নৌ জোট গঠন করেছে। তবে এখনো আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ রিয়াদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি।
এর পাশাপাশি ইয়েমেনে কারা শাসন করবে, তা নিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যেও বিরোধ রয়েছে।
কেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন
সর্বশেষ উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ সালমান ওয়াশিংটনে ফোন করে হুতিদের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন বলে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে।
এখানেই হুতি–সৌদি সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত প্রশ্ন হয়ে উঠছে। কারণ ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে জড়িত। এর সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবের নিরাপত্তার দায়িত্বও যুক্ত হলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
ফিটন-ব্রাউনের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাতগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব চাইছে এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে আইন কার্যকর রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ভূমিকা প্রত্যাশা করছে।
তিনি আরও মনে করেন, সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর রাখতে একটি জোট গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা এখনো সীমিত।
ইরান যুদ্ধ ও হুতিদের কৌশল
হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার আরেকটি দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত করার সম্ভাবনা। ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান বা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মার্কিন উদ্যোগকে জটিল করে তুলতে লোহিত সাগরকে ব্যবহার করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর কাছে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝ আকাশে ধ্বংস করেছে।
তবে একই সময়ে একাধিক ফ্রন্টে সামরিক তৎপরতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সেনাসমাবেশ ও সামরিক প্রস্তুতির গতি কমে যেতে পারে।
হুতিদের নৌ সক্ষমতা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের চলাচলকেও কঠিন ও সময়সাপেক্ষ করতে পারে। সৌদি উপকূল থেকে হরমুজ প্রণালির দূরত্ব এক হাজার কিলোমিটারের বেশি হওয়াও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অতিরিক্ত সামরিক বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তেলের সরবরাহেও বড় ঝুঁকি
হুতি–সৌদি সংঘাতের প্রভাব শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানি সরবরাহের ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরবের পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে বয়ে যাওয়া ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন দেশটির তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। লোহিত সাগর দিয়ে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে এই পাইপলাইনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাক থেকে ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পাইপলাইনের একটি অংশে হামলা চালানোর পর সৌদি আরব শুক্রবার সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। পাইপলাইনটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়।
ফলে হরমুজ ও বাব আল-মানদেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক বিকল্প তেল পরিবহন ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সামনে কি আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে আরও সরাসরি পদক্ষেপ নেবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। হুতিদের কড়া জবাব দিতে গিয়ে যদি যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সংঘাতের নতুন একটি ফ্রন্ট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সম্প্রতি হুতিদের শক্তিশালী করতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার, সামরিক উপদেষ্টা, মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনসংক্রান্ত সরঞ্জাম ইয়েমেনে পাঠিয়েছে।
অর্থাৎ হুতিদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার পেছনে ইরানের সমর্থন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের সংঘাতকে কেবল স্থানীয় ইয়েমেনি বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ কমছে।
সব মিলিয়ে বর্তমান হুতি–সৌদি সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একই সঙ্গে সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পাশাপাশি বাব আল-মানদেবেও যদি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও জটিল হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে তাই মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—হুতিদের মোকাবিলায় কতটা সামরিকভাবে এগোনো হবে এবং একই সঙ্গে কীভাবে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। কূটনৈতিক পথ এখনো খোলা থাকার কথা সৌদি আরব বললেও, সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কথাও স্পষ্ট করা হয়েছে। এই দ্বৈত অবস্থানই আগামী দিনের পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।





