কানাডার ইমিগ্রেশন আদালতের রায় দুই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। জাল নথির সন্দেহে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা বাতিল ও পারমিট প্রত্যাখ্যান পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
কানাডার ইমিগ্রেশন বিভাগ কোনো আবেদনকারীর নথি নিয়ে জালিয়াতির সন্দেহ করলে, সেই সন্দেহের প্রকৃত কারণ না জানিয়ে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না—গুরুত্বপূর্ণ দুই মামলায় এমন বার্তা দিয়েছেন দেশটির ফেডারেল কোর্ট। একটি মামলায় পাঁচ বছরের ইমিগ্রেশন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে; অন্যটিতে ওয়ার্ক পারমিট ও স্টাডি পারমিট প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কী বলছে আদালত?

২০২৬ সালের ১ অক্টোবর বিচারপতি মাইকেল বাতিস্তা দুটি পৃথক মামলায় সিদ্ধান্ত দেন। কুলদীপ কৌরের মামলায় ইমিগ্রেশন বিভাগ তাঁর জমা দেওয়া সম্পত্তির মূল্যায়ন প্রতিবেদনকে জাল বলে বিবেচনা করে misrepresentation-এর অভিযোগে পাঁচ বছরের inadmissibility-এর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
কিন্তু আদালত দেখতে পান, পাঠানো Procedural Fairness Letter-এ প্রতিবেদনটি জাল বলে উল্লেখ করা হলেও, সন্দেহের প্রকৃত ভিত্তি যথেষ্ট স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে অভিযোগের জবাব দেওয়ার অর্থপূর্ণ সুযোগ পাননি আবেদনকারী। আদালত সে কারণে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।
দ্বিতীয় মামলা—রাত্তোল পরিবারের। এখানে ব্যাংক হিসাবের অর্থ ও আর্থিক নথি নিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে স্বামী/স্ত্রীর Open Work Permit এবং শিশুর Study Permit প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, বিষয়টি শুধু পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ না থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; কর্মকর্তার যুক্তিতে অর্থের সত্যতা ও আবেদনকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নেতিবাচক সন্দেহ প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্বেগের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাই আদালত প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করে অন্য কর্মকর্তার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন।
এই দুই রায়ের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—আবেদনে প্রমাণ অপর্যাপ্ত মনে হওয়া আর আবেদনকারী অসৎ বা জাল নথি দিয়েছেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট উদ্বেগ জানিয়ে আবেদনকারীকে কার্যকরভাবে জবাব দেওয়ার সুযোগ দিতে হতে পারে।
তবে আদালত কাউকেই সরাসরি ভিসা বা পারমিট দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেননি। বরং বলেছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ভুল বা অসংগতির অভিযোগ গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কিন্তু এই রায়গুলো মনে করিয়ে দেয়—সঠিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ন্যায্য প্রক্রিয়াও আইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অর্থাত অভিযুক্ত যথাযথভাবে তার জবাব দেয়ার সুযোগ পেলো কীনা আদালত বার বারই সেদিকে নজর রেখেছেন। আর তাই, কোনো আবেদনকারী এমন অভিযোগের মুখে পড়লে, নথি ও চিঠির নির্দিষ্ট বিষয় বুঝে দ্রুত যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।



