আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (4)
এআই ছবির ঝড় তুললেন ট্রাম্প, দিচ্ছেন সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক বার্তা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (24)
আন্দোলন সফল, এবার কি ভোটের রাজনীতিতে নামবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
ব্রাজিল নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের চেষ্টা, মার্কিন ২ কর্মকর্তার ভিসা বাতিল

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার আরেকটি উদাহরণ: বললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার আরেকটি উদাহরণ মার্ক কার্নির আন্তর্জাতিক আইন মন্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান। বিস্তারিত পড়ুন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী Mark Carney বুধবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দেওয়া এক বক্তৃতায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দ্রুত প্রশমনের আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বর্তমান দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই মার্ক কার্নির আন্তর্জাতিক আইন মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সিডনিতে বক্তব্য: আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে প্রশ্ন

https://www.reutersconnect.com/_next/image?q=75&url=https%3A%2F%2Fcdn1.agency.thomsonreuters.com%2Fwatermark%2Ftag%3Areuters.com%2C2026%3Anewsml_RC2KXJAOCMA5%3A1225857618%2Ftag%3Areuters.com%2C2026%3Abinary_RC2KXJAOCMA5-VIEWIMAGE%2F800x800%3Fpartner%3Dfalse%26Expires%3D1772661557%26Signature%3DeLzBnsIx6lmEdAw7MjNWr5ZIVn1AOeNWBENnOd20SMyfn3FAbRQ4u-GXoZCVvQv9AG-9xkcDh5LBR7uzJWXar9ntm0v0S1bIz1bsxtqLPdAySCZH534OtsQXy60pPet9gJULP4yc1StKAe0qvtKlHzPcRjJMiThRO6kvrB~eHXxzebyNjOy7~ywKDQ-BxcNs56s0~j19urkvs1SASmuBuXJrTWw3CVeMbMk~h39G6r8M15jtDLHzs2rGTain-974FSgoN4V3vhNMm6TBsPXW6TnopEU-hsQH6sfCuV0sh-mRHlPTQp71lleyaYZXvokzBKtDLIxO8RocxmefHHKqsA__%26Key-Pair-Id%3DAPKAJ7VIBMO3UCTTZSWQ&w=3840
https://www.lowyinstitute.org/sites/default/files/styles/event_details/public/2023-03/RSIMG_3549.jpg?itok=905xLOYA
https://www.reuters.com/resizer/v2/UO2TUPESVNLP3D4VVP2D3274CU.jpg?auth=6cd374b28718bc28f9f289c988f240f56c2fd1e7b82cc91199214067347cf517&quality=80&width=1920
4

অস্ট্রেলিয়ার Sydney শহরে Lowy Institute-এর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কার্নি বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগকে কানাডা স্বাগত জানায়। তার ভাষায়, এই শাসনব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে “অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসের প্রধান উৎস”।

তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বা এর সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।”

কার্নি সতর্কভাবে যোগ করেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞদেরই নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমি কোনো আইনজীবী নই, আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞ তো নয়ই।”

এই মন্তব্য তার কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে।

মার্ক কার্নির আন্তর্জাতিক আইন মন্তব্য ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ

বুধবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ “আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার আরেকটি উদাহরণ”।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর দুর্বলতা সংঘাত প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে আঞ্চলিক সংঘাত আন্তর্জাতিক মাত্রা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, “কানাডা দ্রুত শত্রুতা হ্রাসের আহ্বান জানাচ্ছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে প্রস্তুত।”

এছাড়া তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, আন্তর্জাতিক আইন সব যুদ্ধরত পক্ষের ওপর বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ কোনো পক্ষই আইনের ঊর্ধ্বে নয়— এমন অবস্থানই তুলে ধরেছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়া সফর: কৌশলগত লক্ষ্য

কার্নির এই মন্তব্য আসে তার অস্ট্রেলিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে। সফরের মূল লক্ষ্য ছিল:

  • বিনিয়োগ আকর্ষণ

  • আরেকটি ‘মধ্যম শক্তিধর’ অংশীদার দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা

এই সফর বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক দেশ সফরের অংশ। এর অন্যতম উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো।

কার্নির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার দুর্বল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্য

সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকার কার্নি এর আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধে জড়িয়েছেন।

সংবাদ অনুযায়ী:

  • ট্রাম্প একাধিকবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার হুমকি দিয়েছেন

  • কানাডার ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করেছেন

এই প্রেক্ষাপটে কার্নির সাম্প্রতিক মন্তব্য দুই দেশের নীতিগত দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে আগের সতর্কবার্তা

জানুয়ারিতে World Economic Forum-এ রাজনৈতিক ও আর্থিক নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে কার্নি সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা “একটি বড় ভাঙনের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তার সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই ধারাবাহিকতায় মার্ক কার্নির আন্তর্জাতিক আইন মন্তব্য বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

কানাডার অবস্থান: উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান

বুধবারের বক্তব্যে কার্নি পরিষ্কারভাবে জানান:

  • কানাডা দ্রুত শত্রুতা হ্রাস চায়

  • সংঘাত নিরসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত

  • আন্তর্জাতিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য

এতে বোঝা যায়, কানাডা সরাসরি কোনো পক্ষের অবস্থান না নিয়ে আইনি কাঠামো ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংকট: কী ইঙ্গিত দিলেন কার্নি?

কার্নির বক্তব্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত স্পষ্ট:

১. বৈশ্বিক শাসন কাঠামো দুর্বল হচ্ছে
২. আঞ্চলিক সংঘাত আন্তর্জাতিক আইনি প্রশ্ন তুলছে
৩. মধ্যম শক্তিধর দেশগুলো বিকল্প কৌশল খুঁজছে

তিনি সরাসরি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার উদাহরণ।

এই মন্তব্য কেবল একটি কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিতও বহন করছে।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দেওয়া বক্তব্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নয়— বরং বৃহত্তর বৈশ্বিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

তার বক্তব্যে একদিকে ইরানের শাসনব্যবস্থা নিয়ে কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক মন্তব্য— এই দ্বৈত বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মার্ক কার্নির আন্তর্জাতিক আইন মন্তব্য বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত