এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (18)
মানুষের নির্দেশ ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করল ‘এআই’
News Photocard (15)
নেতানিয়াহু তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করছে কি না খতিয়ে দেখছে কানাডা
News Photocard (12)
জাতিসংঘে আবারও পাকিস্তানকে দুষল ভারত
News Photocard (6)
বিশ্ববাজারে আবারও কমলো জ্বালানি তেলের দাম
News Photocard (3)
‘নেতানিয়াহু বিশ্ব ইহুদিদের প্রতিনিধি নন’, নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

ভারতজুড়ে নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তেলাপোকাদের

ভারতজুড়ে নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তেলাপোকাদের, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ঘোষণা।

ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু করা হবে। একই সময়ে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও শুক্রবার ভারতের সব রাজ্যের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। বিষয়টি এসেছে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশের পর।

তেলাপোকা আন্দোলনের নতুন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে ককরোচ বা ‘তেলাপোকা’ যুব আন্দোলনের নেতারা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছেন। সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না হলে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু করার কথা জানিয়েছেন তারা।

ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের এই ঘোষণা দেন। এর আগে জুলাই মাসেও যুব বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিল সিজেপি।

জুলাইয়ের ওই আন্দোলনের পর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। সোর্স প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

কংগ্রেসেরও দেশজুড়ে বিক্ষোভের ঘোষণা

একই ইস্যুতে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলটি জানিয়েছে, শুক্রবার দেশের সব রাজ্যের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।

কংগ্রেসের দাবির মধ্যে রয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তার এবং তাঁকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে অপসারণ। একই সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও ভোটার তালিকায় করা পরিবর্তন স্বাধীনভাবে পর্যালোচনার দাবিও জানিয়েছে দলটি।

অর্থাৎ, একই সময়ে দুটি পৃথক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশ্য প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা জানিয়েছে। তবে তাদের দাবির ধরন ও সাংগঠনিক পরিচয় আলাদা।

নির্বাচন কমিশনের ভেতরের মতপার্থক্য কোথায়

তেলাপোকা আন্দোলনের নতুন ঘোষণার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বিষয়টি। এর একদিন আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১৪ বার প্রশ্ন বা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব আপত্তির বড় অংশ গত বছর শুরু হওয়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির বিভিন্ন আপত্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, নতুন ভোটার যুক্ত করা এবং ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণসহ কয়েকটি বিষয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে বিতর্ক

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ হালনাগাদ প্রক্রিয়া বা SIR নিয়ে এর আগেও রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেতরেও আপত্তি নথিভুক্ত হয়েছে।

বিশেষ করে নতুন ভোটার নিবন্ধন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার ডেটাবেসে প্রবেশাধিকার নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার প্রশ্ন তুলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে মূল বিষয় হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের ভূমিকা। এসব প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চাপ আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য কী

অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের খবরের পর ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের সব কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশন অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবরকে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে এবং তাদের কর্মকাণ্ড আইনসম্মত বলে অবস্থান জানিয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে কমিশনের অভ্যন্তরীণ আপত্তির পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতের নির্বাচন কমিশন তিন সদস্যের একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং আইন অনুযায়ী মতপার্থক্য হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রয়েছে।

বিজেপির অবস্থান

নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের বিপরীতে ক্ষমতাসীন বিজেপি কমিশনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

বিরোধী দলগুলো গত কয়েক বছর ধরে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা দিতে সতর্কতা ছাড়াই লাখ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যাচাই ছাড়া নতুন ভোটারের নাম যুক্ত করা হয়েছে।

তবে বিজেপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনসহ কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানই ‘স্বৈরাচারী শাসনের’ অধীনে নয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিকভাবে কাজ করছে।

এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল বিতর্কটি একদিকে বিরোধীদের নির্বাচন কমিশন নিয়ে অভিযোগ, অন্যদিকে কমিশন ও বিজেপির সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান—এই দুই অবস্থানের মধ্যে তৈরি হয়েছে।

তেলাপোকা আন্দোলনের আগের ভূমিকা

ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির সাম্প্রতিক কর্মসূচির ঘোষণা হঠাৎ করে আসেনি। সোর্স প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে জুলাইয়ে যুব বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিল সিজেপি।

ওই আন্দোলনের পর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। ঘটনাটি ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচিত হয়ে ওঠে।

এবার দলটি নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে লক্ষ্য করে সরাসরি পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তাদের ঘোষিত কর্মসূচি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেটিই এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে তিনটি বিষয় পাশাপাশি উঠে এসেছে—নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য, ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগ এবং বিরোধী দল ও সিজেপির আন্দোলনের ঘোষণা।

তবে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে কোনটি শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হবে, তা নির্ধারণের জন্য স্বাধীন পর্যালোচনা, প্রাসঙ্গিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দুই নির্বাচন কমিশনারের অন্তত ১৪টি আপত্তির কথা বলা হলেও নির্বাচন কমিশন তাদের কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে বোঝার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আগামী ৪৮ ঘণ্টাকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির ঘোষণা এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। একই সঙ্গে শুক্রবার বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে কংগ্রেসের ঘোষিত কর্মসূচিও পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই তেলাপোকা আন্দোলন শুধু একটি সংগঠনের কর্মসূচি নয়; এটি ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত