এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (7)
‘অজান্তে সত্য প্রকাশ’, ভারতের উত্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভয় : রুশ দূত
News Photocard (33)
হরমুজ প্রণালির নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলেন ট্রাম্প
News Photocard (15)
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের ৫৩ ছবি ফাঁস করল এআই এজেন্টরা
News Photocard (9)
অভিবাসন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকট, ব্যাহত গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ
News Photocard (24)
ভারতজুড়ে নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তেলাপোকাদের

যুক্তরাজ্যে পানিতে ডুবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে শোক নেমেছে। ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে লেকের পানিতে পড়ে ২০ বছর বয়সী নাঈম ইসলামের মৃত্যু হয়; ১৩-১৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার।

যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে লেকের পানিতে ডুবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম ছিলেন ২০ বছর বয়সী ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। স্থানীয় সময় ২৬ সেপ্টেম্বর এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেকের পাড়ে ওজু করতে যাওয়ার সময় প্রবল বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান নাঈম। তিনি সাঁতার জানতেন না। প্রায় ১৩-১৪ ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর তাকে উদ্ধার করা হয়।

নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে তার পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ওয়েলসের উদ্দেশে রওনা হন।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু যেভাবে ঘটল

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নাঈম লন্ডন থেকে দুই বাংলাদেশি বন্ধুর সঙ্গে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ভ্রমণের সময় তারা একটি লেকের কাছে যান।

সেখানে ওজু করার জন্য লেকের পাড়ে গেলে হঠাৎ প্রবল বাতাসের কারণে নাঈম ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান।

সাঁতার না জানার কারণে তিনি পানিতে ডুবে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পাশে থাকা তার এক বন্ধু নাঈমকে উদ্ধারের জন্য পানিতে ঝাঁপ দেন। তবে চেষ্টা করেও তিনি নাঈমকে খুঁজে পাননি।

পরবর্তীতে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়। এরপর শুরু হয় অনুসন্ধান। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ চালানোর পর প্রায় ১৩-১৪ ঘণ্টা পর নাঈমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

যুক্তরাজ্যের সরকারি জল নিরাপত্তা নির্দেশনাতেও খোলা পানির ক্ষেত্রে অদৃশ্য ঝুঁকি এবং পানিতে দ্রুত বিপদে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

পরিবারের কাছে পৌঁছায় দুর্ঘটনার খবর

নাঈমের মামা মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান জানান, লন্ডন থেকে দুই বাংলাদেশি বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নাঈম ওয়েলসে বেড়াতে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পরিবারের সদস্যরা পান ঘটনার দিন রাত প্রায় ১টার দিকে।

খবর পাওয়ার পর নাঈমের বাবা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম পূর্ব লন্ডন থেকে ওয়েলসের উদ্দেশে রওনা হন। ছেলের দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও শোক নেমে আসে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নাঈম ছিলেন পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়াশোনা করতেন।

ওয়েলস থেকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে মরদেহ

নাঈমের মরদেহ ওয়েলস থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর লন্ডনে নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে তার জানাজার সময় ও স্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পরে এ বিষয়ে জানানো হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে থাকা স্বজন, পরিচিতজন এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও শোকের ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য জানা যায়নি।

নাঈমের পারিবারিক ও শিক্ষাজীবনের তথ্য

মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। তার বাবা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম।

নাঈমের মামা মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান পরিবারের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানিয়েছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নে।

নাঈমের বাবা কেন্দ্রীয় কৃষক দলের একজন সদস্য বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খোলা পানিতে নিরাপত্তার গুরুত্ব

নাঈমের ঘটনায় পানির আশপাশে চলাফেরা ও খোলা পানির নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্যের Environment Agency-এর সরকারি নির্দেশনায় পানির কাছে অবস্থানের সময় সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, খোলা পানিতে পানির গভীরতা পরিবর্তিত হতে পারে এবং পানির নিচে দৃশ্যমান নয় এমন ঝুঁকি থাকতে পারে।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রকাশিত জল নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শেও খোলা পানির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, খোলা পানির তাপমাত্রা বাইরে থেকে যতটা মনে হয় তার চেয়ে অনেক কম হতে পারে এবং হঠাৎ ঠান্ডা পানিতে পড়লে শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

তবে নাঈমের ক্ষেত্রে এসব সাধারণ জল নিরাপত্তা তথ্যকে দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই। তার পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লেকের পাড়ে ওজু করার সময় প্রবল বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি পানিতে পড়ে যান এবং সাঁতার না জানায় ডুবে যান।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোক

নাঈমের মৃত্যুর পর তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। লন্ডন থেকে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঘটনায় তার পরিচিতজনদের মধ্যেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

পরিবারের জন্য এখন মরদেহ লন্ডনে নেওয়া এবং জানাজার আয়োজন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৮ সেপ্টেম্বর মরদেহ লন্ডনে নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেলেও জানাজার সময় ও স্থান সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর ওয়েলসে দুর্ঘটনাটি ঘটে এবং প্রায় ১৩-১৪ ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর নাঈমকে উদ্ধার করা হয়। তার বয়স ছিল ২০ বছর এবং তিনি যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন।

সর্বাধিক পঠিত