এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (15)
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের ৫৩ ছবি ফাঁস করল এআই এজেন্টরা
News Photocard (24)
ভারতজুড়ে নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তেলাপোকাদের
News Photocard (18)
মানুষের নির্দেশ ছাড়াই অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করল ‘এআই’
News Photocard (15)
নেতানিয়াহু তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করছে কি না খতিয়ে দেখছে কানাডা
News Photocard (12)
জাতিসংঘে আবারও পাকিস্তানকে দুষল ভারত

অভিবাসন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকট, ব্যাহত গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ

অভিবাসন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক সংকট, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কমেছে ১৪–১৬%, গরুর মাংসের সরবরাহ ও দামে নতুন চাপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম কানসাসে অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর কয়েক দিনের অভিযানের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে। স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠক ও জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক কাজে না যাওয়ায় কারখানাগুলোতে শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে গবাদিপশু জড়ো হয়ে থাকছে এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের গতি কমে গেছে। Reuters-ও দক্ষিণ-পশ্চিম কানসাসে আইসিই অভিযানের তাৎক্ষণিক প্রভাবের কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান ও শ্রমিক সংকট

ডজ সিটি, লিবারেল ও গার্ডেন সিটির মতো লাতিনো-প্রধান এলাকাগুলোতে অভিযানের প্রভাব বেশি দৃশ্যমান হয়েছে বলে স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠক ও প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আইসিই এজেন্টদের উপস্থিতির কারণে অনেক অভিবাসী শ্রমিক গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় নিজেদের ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোতে। শ্রমিকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ন্যাশনাল বিফ ও কারগিলের মতো বড় মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানাতেও কাজের গতি থমকে যাওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো।

Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম কানসাসে বিপুলসংখ্যক ফিডলট ও জবাইখানা রয়েছে এবং অভিবাসন অভিযান সেখানে গরুর মাংস শিল্পে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে।

অভিযানের প্রভাবে শহরজুড়ে আতঙ্ক

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, আইসিই এজেন্টরা রাস্তায় গাড়ি থামানোর পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কারখানার আশপাশেও অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, এতে বিশেষ করে অশ্বেতাঙ্গ ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ফলে অনেক মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো এলাকা অনেকটা ‘ভূতুড়ে শহরের’ মতো হয়ে পড়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পাশাপাশি মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্যও এসেছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তাসচিব মার্কওয়েন মুলিন কর্মক্ষেত্রে সরাসরি অভিযান চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, অভিযানের লক্ষ্য ছিল খুনি, ধর্ষক ও অবৈধ অভিবাসীরা।

মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কমেছে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ

শ্রমিক সংকটের সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব দেখা যাচ্ছে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের হারে। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের হার প্রায় ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কানসাস যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী অঞ্চল। ফলে এত বড় একটি উৎপাদনকেন্দ্রে শ্রমিক সংকট দেখা দিলে তার প্রভাব শুধু স্থানীয় শিল্পেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংস বাজার ইতোমধ্যে সরবরাহসংক্রান্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। USDA-এর সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণেও ২০২৬ সালে গরু জবাইয়ের হার ঐতিহাসিকভাবে কম থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং গরুর মাংস উৎপাদনের পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।

সরবরাহে চাপ বাড়ার আশঙ্কা

কানসাসের মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ, গবাদিপশু জবাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা কমে গেলে খামার থেকে বাজার পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিক সংকটের কারণে গবাদিপশু জমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ পশু থাকলেও সেগুলোকে স্বাভাবিক গতিতে প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গরুর মাংসের সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে। এর ফলে রেকর্ড পর্যায়ে থাকা গরুর মাংসের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

USDA-এর বাজার outlook-এও ২০২৬ ও ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংস উৎপাদন কম থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশটিতে গরু জবাইয়ের হার ঐতিহাসিকভাবে নিচু পর্যায়ে রয়েছে।

বড় মাংস কোম্পানিগুলোর অবস্থান

ন্যাশনাল বিফ কোম্পানি জানিয়েছে, তারা সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আইন মেনে কাজ করছে। তবে অভিবাসন অভিযানের সামগ্রিক পরিস্থিতি বা এর প্রভাব নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি।

কারগিলের মতো বড় মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানাতেও শ্রমিক সংকটের প্রভাব পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এ ধরনের বড় প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মীর সংখ্যা কমে গেলে উৎপাদনের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দক্ষিণ-পশ্চিম কানসাসের মাংস শিল্পে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেটিই দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান: অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানকে ঘিরে কানসাসে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি অভিবাসন নীতির পাশাপাশি শ্রমবাজার ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার ওপরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একদিকে সরকারি কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযান নির্দিষ্ট শ্রেণির অপরাধী ও অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠক ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, এর প্রভাব অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছে এবং কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি কমিয়েছে।

এই দুই বক্তব্যের মধ্যকার পার্থক্য পরিস্থিতিটির জটিলতা তুলে ধরে। একই সময়ে, শ্রমিক সংকটের বাস্তব প্রভাব উৎপাদন কমে যাওয়ার পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হচ্ছে।

USDA বর্তমানে দেশটির স্বাধীন ও আঞ্চলিক গরু জবাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তার জন্য ৫০ কোটি ডলারের SPUR কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো স্বাধীন ও আঞ্চলিক মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা ধরে রাখা এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

পরিস্থিতির পরবর্তী দিক

কানসাসে অভিবাসন অভিযান কতদিন চলবে এবং শ্রমিকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির প্রভাব কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা এই মুহূর্তে স্পষ্ট নয়। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের হার ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য শিল্পটির ওপর তাৎক্ষণিক চাপের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।

কানসাস যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, তাই স্থানীয় শ্রমিক সংকটের প্রভাব বৃহত্তর সরবরাহব্যবস্থায় কতটা ছড়িয়ে পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

একদিকে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান চলছে, অন্যদিকে মাংস শিল্পকে শ্রমিক সংকট সামলাতে হচ্ছে। এই দুই বাস্তবতার সংঘাতেই দক্ষিণ-পশ্চিম কানসাসে সাম্প্রতিক সংকটের মূল চিত্র ফুটে উঠেছে।

সর্বাধিক পঠিত