এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (27)
মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন ইশরাক,মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে অবস্থানে অনড়
News Photocard (12)
আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, বাড়ছে ঋণের চাপ
News Photocard
দুপুরে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক
News Photocard
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: বুকিংয়ের নথি আছে, খোঁজ নেই তুহিনের পরিবারের
News Photocard (37)
ডেসকোর প্রি-পেইড গ্রাহকদের জন্য বিশেষ অনুরোধ

বাংলাদেশে ৪৫ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা কানাডার

বাংলাদেশে ৪৫ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা কানাডার, কৃষি, ব্যবসা, অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। রণদীপ সারাইয়ের সফরে এ ঘোষণা আসে।

বাংলাদেশ সফরে এসে চারটি নতুন উদ্যোগে কানাডার ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঘোষণা করেছেন দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই। ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সফরকালে ঘোষিত এই ৪ কোটি ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা, কৃষি উদ্ভাবন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বেসরকারি খাতের অর্থায়নে সহায়তা করবে। কানাডা ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং দুই দেশের মানুষের জন্য উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সফরকালে প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জ্বালানি ও জলবায়ু অর্থায়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা উঠে আসে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ, কানাডা ও অন্যান্য অংশীদারের যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্ব নিয়েও মতবিনিময় হয়।

কানাডার এই নতুন অর্থায়ন কেবল উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ব্যবসার পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে।

কানাডার ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ: চার উদ্যোগে অর্থায়ন

প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাইয়ের সফরে ঘোষিত অর্থায়ন চারটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি উদ্যোগের লক্ষ্য আলাদা হলেও সামগ্রিক উদ্দেশ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, কৃষি উদ্ভাবন ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন।

১. বায়োএন্টারপ্রাইজ কানাডা: কৃষি ও খাদ্য খাতে ১৮ মিলিয়ন ডলার

বায়োএন্টারপ্রাইজ কানাডাকে ১ কোটি ৮০ লাখ কানাডিয়ান ডলার দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। এ অর্থায়নের মাধ্যমে কানাডার কৃষি খাতের উদ্ভাবকদের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য খাতের সংযোগ স্থাপন করা হবে।

এর লক্ষ্য খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করা এবং কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো। দুই দেশের গবেষণা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন এবং খাদ্য খাতের উন্নয়নে নতুন সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি উদ্ভাবনের গুরুত্ব রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

২. কোওয়াটার ইন্টারন্যাশনাল: ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ১৮ মিলিয়ন ডলার

কোওয়াটার ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া হবে ১ কোটি ৮০ লাখ কানাডিয়ান ডলার। এই অর্থের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা সহজ করা, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা এবং দেশীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো।

কানাডাসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই উদ্যোগে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৩. বিশ্বব্যাংক: অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে ৫ মিলিয়ন ডলার

অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সংস্কারে অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংককে ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা।

অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো এগিয়ে নেওয়া এই অর্থায়নের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

৪. ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন: অর্থায়নে ৪ মিলিয়ন ডলার

ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনকে (আইএফসি) দেওয়া হবে ৪০ লাখ কানাডিয়ান ডলার। এই অর্থ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

বিশেষ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কানাডার ঘোষিত বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ অর্থায়ন বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে।

দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

কানাডার এই বিনিয়োগ ঘোষণা দুই দেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি পারস্পরিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি দৃষ্টান্ত। ঘোষণায় উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি ব্যবসা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

কানাডার স্বাধীন উন্নয়ন সহযোগিতার ইতিহাসে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে কানাডা দেশটিকে ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার অতিক্রম করেছে।

এই পরিসংখ্যান দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক—দুই দিকই তুলে ধরে। নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহায়তার পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কানাডার ঘোষিত উদ্যোগগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অর্থায়নের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে কৃষি, ব্যবসা পরিচালনা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

কৃষি উদ্ভাবন ও খাদ্যনিরাপত্তায় সহযোগিতা

বাংলাদেশ সফরের সময় প্রতিমন্ত্রী সারাই কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিমিট) একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি দেখেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষকেরা কীভাবে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে, খাদ্যের চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে পারেন।

বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সিমিট বায়োএন্টারপ্রাইজ কানাডার সঙ্গে কাজ করবে। কৃষি খাতে উদ্ভাবনী পদ্ধতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এই সহযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য।

কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে গবেষণার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব ফল নির্ভর করবে প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণার প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সহযোগিতার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

দক্ষতা উন্নয়নে কানাডার সহায়তা: ব্র্যাক প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শন

ঢাকার আশকোনায় ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই। সেখানে তিনি জানতে পারেন, কানাডার সহায়তায় তরুণ-তরুণীরা, বিশেষ করে নারীরা, কীভাবে বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছেন।

কানাডা, ব্র্যাক ও অস্ট্রেলিয়ার একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে কানাডা এই কর্মসূচিতে ৪ কোটি ৪০ লাখ কানাডিয়ান ডলার প্রদান করেছে। গত পাঁচ বছর ধরে এই সহায়তা বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছে।

দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ ও নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের প্রস্তুতি জোরদার করার সুযোগ তৈরি হয়।

এই সফরে প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী কানাডার উন্নয়ন সহায়তা কীভাবে মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।

স্বাস্থ্য গবেষণায় আইসিডিডিআর,বির ভূমিকা

ঢাকায় আইসিডিডিআর,বি হাসপাতাল পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সারাই কানাডার সহায়তায় পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হন। এসব গবেষণা স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে সাশ্রয়ী ও জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা রাখছে বলে সফরসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণার মাধ্যমে তৈরি উদ্ভাবন বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এবং কানাডাতেও লাখো মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বর্তমানে আইসিডিডিআর,বিকে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কানাডা ১ কোটি ৫০ লাখ কানাডিয়ান ডলার অনুদান দিয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়া কানাডাই একমাত্র দেশ, যারা প্রতিষ্ঠানটিকে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিয়ে আসছে।

এ ছাড়া যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা ও ঘাটতি নিয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণার জন্য কানাডা আইসিডিডিআর,বিকে আরও ২ কোটি ৪০ লাখ কানাডিয়ান ডলার সহায়তা দিয়েছে।

এই সহায়তা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডা-বাংলাদেশ সহযোগিতা

বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই কক্সবাজারে দীর্ঘদিন ধরে নিজ দেশ থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য কানাডার সহায়তা কীভাবে শিক্ষা, দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণে অবদান রাখছে, সে সম্পর্কে সরাসরি অবগত হন।

২০১৮ সাল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য কানাডা ৬০ কোটি কানাডিয়ান ডলারেরও বেশি সহায়তা দিয়েছে।

সফরকালে তিনি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডা, বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ সংকট নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্রের সঙ্গে আলোচনাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি উঠে আসে।

তৈরি পোশাক খাতে কানাডার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

ঢাকায় প্রতিমন্ত্রী সারাই গিলডান অ্যাকটিভওয়্যার বাংলাদেশ লিমিটেড পরিদর্শন করেন। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে কানাডার বৃহত্তম বিনিয়োগকারী। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এই পরিদর্শনে বাংলাদেশ ও কানাডার অর্থনৈতিক সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে। উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে।

পাশাপাশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্বও আলোচনায় স্থান পায়।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্র। এ খাতে কানাডার বিনিয়োগ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন কর্মসংস্থান বা বিনিয়োগের পরিমাণ সম্পর্কে সফরসংক্রান্ত বিবরণে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়নি।

কানাডার ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র

রণদীপ সারাইয়ের সফরে ঘোষিত নতুন অর্থায়নের পাশাপাশি কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জ্বালানি ও জলবায়ু অর্থায়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে দুই দেশের অংশীদারত্বের পরিসর কেবল উন্নয়ন সহায়তায় সীমিত না রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার আগ্রহ প্রতিফলিত হয়েছে।

কানাডার নতুন অর্থায়নের চারটি প্রধান ক্ষেত্র হলো কৃষি উদ্ভাবন, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বেসরকারি খাতের অর্থায়ন। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহায়তা করা এবং দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা।

তবে ঘোষিত অর্থায়নের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এবং বাংলাদেশের প্রয়োজনের সঙ্গে উদ্যোগগুলোর কার্যকর সমন্বয়ের ওপর।

বাংলাদেশ সফর শেষে থাইল্যান্ডে গেলেন রণদীপ সারাই

বাংলাদেশ সফর শেষ করে প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

সেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার লক্ষ্যে কানাডার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে তিনি ভূমিকা পালন করবেন।

সব মিলিয়ে, কানাডার ৪৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ বাংলাদেশের কৃষি, ব্যবসা, অর্থায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। দুই দেশের ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সর্বাধিক পঠিত