আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
এসএসসির ফল সোমবার, যে ৩ উপায়ে জানবেন ফলাফল
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
মন্ত্রিসভায় যোগ হচ্ছে নতুন মুখ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইট নিয়ে বিমানের নতুন নির্দেশনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
অত্যাধুনিক হচ্ছে সংসদের সাউন্ড সিস্টেম
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
আগস্টে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, হতে পারে বন্যা

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ২ বছর: রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের কাজ এগোয়নি

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ২ বছর: রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের কাজ এগোয়নি, রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে দুই বছর ধরে আলোচনা, কমিশন ও গণভোট হলেও মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন হয়নি। নতুন কমিটি গঠন করে আবারও সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ চলছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা হিসেবে সামনে আসে রাষ্ট্র সংস্কার। অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম এবং জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়। কিন্তু দুই বছর পরও রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারের বড় অংশ বাস্তবায়িত হয়নি।

বর্তমানে সংবিধান সংশোধনের জন্য নতুন করে সংসদীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার। গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করেছে জাতীয় সংসদ। তবে বিরোধী দল এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের উদ্যোগ

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। এর পরপরই রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কাঠামো সংস্কারের দাবি রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাস পর, ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে অন্তর্বর্তী সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এগুলো ছিল সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং পুলিশ সংস্কার কমিশন।

পরে শ্রম, নারী ও গণমাধ্যমবিষয়ক আরও তিনটি কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনগুলো বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে সুপারিশ তৈরি করে।

সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির জন্য ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। প্রায় আট মাসে ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়। এতে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রাখা হয়। এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব ছিল সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত।

সংবিধান সংস্কার নিয়ে গণভোট

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রক্রিয়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে না থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।

এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ নির্ধারণ করতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। এর আলোকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সংবিধান সংস্কার-সম্পর্কিত গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়। বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী এরপর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং সদস্যদের সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে পৃথক শপথ নেওয়ার কথা ছিল।

এ ছাড়া প্রথম অধিবেশনের তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল।

তবে বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি।

কেন গঠিত হয়নি সংবিধান সংস্কার পরিষদ

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা সেই শপথ নেননি। ফলে সংস্কার পরিষদও গঠিত হয়নি।

বিএনপির অবস্থান হলো, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ এবং এ ধরনের পৃথক শপথ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে দলটি বলেছে, জুলাই জাতীয় সনদে তারা যেসব বিষয়ে ভিন্নমতসহ স্বাক্ষর করেছে, সেগুলো সেই অবস্থান অনুযায়ী বাস্তবায়ন করবে।

এই অবস্থানের পরই সংবিধান সংশোধনের জন্য নতুন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে নতুন বিশেষ কমিটি

গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদ ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।

কমিটির দায়িত্ব হলো সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়া। ইতিমধ্যে কমিটির প্রথম বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কমিটি জুলাই জাতীয় সনদকে সামনে রেখে কাজ করবে। একই সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা সংস্কার প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে। পুরো সংবিধান পর্যালোচনার পাশাপাশি সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, পেশাজীবী এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে বিরোধী দল এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে সংবিধান সংশোধনের নতুন প্রক্রিয়াকে ঘিরেও রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপির প্রস্তাব বনাম জুলাই সনদ

সংবিধান সংশোধনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

এর একটি উদাহরণ সংসদের উচ্চকক্ষ। জুলাই জাতীয় সনদে নিম্নকক্ষে সারা দেশে পাওয়া ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি একটি দলের নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের কথা বলেছে।

উচ্চকক্ষের ক্ষমতার ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। জুলাই সনদ অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনী বিল নিম্নকক্ষে পাস হওয়ার পর উচ্চকক্ষে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হতে হবে। বিএনপি উচ্চকক্ষকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার পক্ষে নয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিএনপির প্রস্তাবকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে জুলাই সনদের তুলনায় মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কমতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্র সংস্কারের অগ্রগতি কতটা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নির্ধারিত সময়ে ১১০টি অনুমোদন করা হয়। কিছু অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে অনুমোদন পায় এবং আইনে পরিণত হয়।

অন্যদিকে সাতটি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়। আরও ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে আনা হয়নি। ফলে সেগুলো কার্যকারিতা হারায়।

অনুমোদন না পাওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, দুদকের তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধান ক্ষমতা বাড়ানো, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করা, গুম প্রতিরোধ এবং পুলিশ কমিশন-সংক্রান্ত উদ্যোগ।

গত এপ্রিলে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এসব বিষয় আরও শক্তিশালী করে পরবর্তী সময়ে নতুন বিল আকারে সংসদে আনা হবে। তবে এখন পর্যন্ত এসব বিষয়ে কোনো বিল সংসদে আনা হয়নি।

মানবাধিকার কমিশন ও দুদক নিয়ে অগ্রগতি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন না পাওয়ায় কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পদত্যাগ করেন। এখনো নতুন আইন করা হয়নি এবং কমিশনও পুনর্গঠন করা হয়নি।

অন্যদিকে পুরোনো আইন অনুযায়ীই দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের একটি খসড়া তৈরি করে মতামতের জন্য উন্মুক্ত করেছে। এতে গুমের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা অধ্যাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ পার্থক্য নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

যেসব ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা বেশ কিছু অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন অধ্যাদেশ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি সংশোধন অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন ও অধ্যাদেশ রয়েছে।

সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশে সংশোধনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়। এর আওতায় নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল, সভা ও প্রকাশনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধের বিধান রাখা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধন এনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কোনো দলের বিচার করার বিধান যুক্ত করা হয়। অন্য একটি অধ্যাদেশ অনুমোদনের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তিও দেওয়া হয়।

তবে এসবের পাশাপাশি বেশ কিছু অধ্যাদেশ ছিল নাম পরিবর্তনের মতো প্রশাসনিক বিষয়সংক্রান্ত।

ব্যাংক আইন নিয়ে বিতর্ক

কিছু অধ্যাদেশ বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও সংশোধিত আকারে সংসদে পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের সংশোধনী উল্লেখযোগ্য।

সংশোধনীতে এমন একটি বিধান যুক্ত করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয় বলে সমালোচনা ওঠে। পরে সমালোচনার মুখে সরকার ওই বিধান আইন থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউটও করেছিল।

সরকারের বক্তব্য কী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রায় সব অধ্যাদেশই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংসদ অনুমোদন করেছে। অনেক বিধিবিধানও বর্তমান সরকার সমর্থন করেছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের বিষয়গুলো সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন এবং বিশেষ কমিটি এ বিষয়ে সুপারিশ দেবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানিয়েছেন, জুলাই সনদের যেসব প্রস্তাবে বিএনপি একমত, সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের কিছু অঙ্গীকারও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বাকি বিষয়গুলোতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

সামনে রাষ্ট্র সংস্কারের চ্যালেঞ্জ

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন এখন নতুন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। একদিকে জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব, অন্যদিকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার—এই দুই অবস্থানের সমন্বয় করাই বিশেষ কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে উঠেছে।

একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগগুলোর যেগুলো সংসদে অনুমোদন পায়নি, সেগুলোর ভবিষ্যৎও গুরুত্বপূর্ণ। মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন, দুদক, বিচার বিভাগ, পুলিশ এবং গুম প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলোতে নতুন আইন বা সংস্কার উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান হয়নি।

ফলে দুই বছর পর রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় কিছু আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তন এলেও বড় ধরনের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার এখনো সম্পন্ন হয়নি। নতুন বিশেষ কমিটির সুপারিশ এবং পরবর্তী সংসদীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে এ বিষয়ে কতটা অগ্রগতি হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সর্বাধিক পঠিত