আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
ফখরুলই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
পাবনার ৪ মাদরাসার সবাই ফেল
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (13)
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
অস্ট্রেলিয়া গমনেচ্ছুদের জন্য ঢাকাস্থ হাইকমিশনের বিশেষ সতর্কবার্তা

গাফিলতিতে বেড়েছে হাম, কার দায় কতটা

গাফিলতিতে বেড়েছে হাম, কার দায় কতটা, হামের প্রাদুর্ভাব কেন ভয়াবহ হলো? টিকা কর্মসূচি পেছানো, টিকার ঘাটতি, তথ্য বিশ্লেষণে ব্যর্থতা ও ব্যবস্থাপনার গাফিলতিতে বাড়ছে শিশুমৃত্যু।

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার পেছনে টিকা কর্মসূচি পিছিয়ে যাওয়া, প্রয়োজনের তুলনায় কম টিকা কেনা, ঝুঁকির তথ্য যথাসময়ে বিশ্লেষণ না করা এবং প্রশাসনিক জটিলতার মতো একাধিক কারণ উঠে এসেছে। তিন মাস ধরে সরকারি নথিপত্র সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে করা অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২২ এপ্রিল মারা যায় ফারজানা ইসলাম ও হেলাল ভূঁইয়ার আট মাস ১৮ দিনের সন্তান ফাইয়াজ হাসান তাজিম। বিয়ের ১১ বছর পর আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তান পেয়েছিলেন তাঁর মা। ১৫ মার্চ থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে তাজিমের মতো ৮৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের প্রায় সবাই শিশু।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমান সংকট কোনো একটি সিদ্ধান্ত বা কোনো একটি সরকারের ব্যর্থতার ফল নয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই এবং আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে পাঁচ প্রধান কারণ

প্রথম আলোর তিন মাসের অনুসন্ধানে বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হয়েছে।

১. হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি সাত মাস পিছিয়েছে

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি বারবার পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের এপ্রিলে শুরু হয়। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় সাত মাস দেরি হয়।

অনুসন্ধানে পাওয়া আইসিসির সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, এ সময় টাইফয়েডের টিকা কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও লিখিতভাবে জানিয়েছে, টাইফয়েডের টিকাদান কর্মসূচির কারণে হাম-রুবেলার জাতীয় ক্যাম্পেইন পিছিয়েছিল।

২০২৫ সালের ২৪ জুনের সভায় প্রথমে টাইফয়েডের কর্মসূচি এবং পরে হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইনের সময় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও সেটিও বাস্তবায়িত হয়নি।

শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

২. প্রয়োজনের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম টিকা কেনা হয়েছে

বাংলাদেশে নিয়মিত কর্মসূচির জন্য বছরে প্রায় ২৫ লাখ ৮০ হাজার ভায়াল হাম-রুবেলার টিকা প্রয়োজন। প্রতিটি ভায়ালে পাঁচ ডোজ হিসেবে বছরে প্রয়োজন প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ ডোজ।

কিন্তু ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩ কোটি ৮৭ লাখ ডোজ। এর বিপরীতে এসেছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার ডোজ। অর্থাৎ তিন বছরে প্রয়োজনের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম টিকা কেনা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ঢাকার কেন্দ্রীয় গুদামে হাম-রুবেলার টিকার সংকট ছিল। বিভিন্ন সময়ে মাঠপর্যায়ে সরবরাহের মতো পর্যাপ্ত টিকাও ছিল না।

এ ঘাটতির প্রভাব নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতেও পড়ে। একটি ভায়ালে পাঁচ ডোজ থাকলেও সব সময় পাঁচ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে টিকার অপচয়ও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়।

তথ্য ছিল, কিন্তু সময়মতো সতর্কতা আসেনি

হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য আগে থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে ছিল বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা বাড়ছিল। প্রকৃত টিকাদানের হার সরকারি হিসাবের তুলনায় কম ছিল। পাশাপাশি পরীক্ষাগারে হাম শনাক্তের সংখ্যাও বাড়ছিল। কিন্তু এসব তথ্য একত্র করে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি চিহ্নিত করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরীক্ষাগারে হাম শনাক্তের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শনাক্তের সংখ্যা আরও দ্বিগুণ হয়। এসব তথ্য ইপিআইয়ের কাছে পাঠানো হলেও উচ্চপর্যায়ে তা যথাযথভাবে জানানো হয়নি বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লিখিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোনো কমিউনিটিতে হামের টিকার কভারেজ যথেষ্ট না হলে অথবা টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা নির্দিষ্ট এলাকায় বাড়তে থাকলে প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমান পরিস্থিতিকে সংস্থাটি ইমিউনিটি গ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

সরকারি হিসাব নিয়েও প্রশ্ন

২০২৫ সালে ইপিআইয়ের ড্যাশবোর্ডে হামের টিকার কভারেজ ৫৭ দশমিক ১ শতাংশ দেখানো হয়েছিল। পরে ইপিআই জানিয়েছে, ওই বছর ৯ মাস বয়সী ৯২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ১৫ মাস বয়সী ৯০ দশমিক ৭৮ শতাংশ শিশু হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে।

তবে মূল্যায়ন প্রতিবেদনের তথ্যের সঙ্গে সরকারি হিসাবের পার্থক্য রয়েছে। ২০২৩ সালে ইপিআইয়ের হিসাবে হামের টিকার কভারেজ ছিল ৯৩ শতাংশ। কিন্তু মূল্যায়নে প্রকৃত কভারেজ পাওয়া যায় ৮১ শতাংশ।

অর্থাৎ সরকারি হিসাব ও বাস্তব টিকাদানের মধ্যে বড় ব্যবধান ছিল।

ব্যবস্থাপনা ও টিকা ক্রয়ের জটিলতা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। টিকা কেনার পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে টিকা ক্রয়ে সময় বেড়ে যায়।

আগের ব্যবস্থায় উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে তুলনামূলক সহজে টিকা কেনা যেত। পরে টিকাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম রাজস্ব খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। নতুন ব্যবস্থায় দরপত্রপ্রক্রিয়ার কারণে সময় বেশি লাগার বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ সময় ইপিআইয়ের টিকাদানকেন্দ্রে টিকা পৌঁছে দেওয়ার কাজে থাকা ১ হাজার ৩২৬ জন পোর্টারের বেতনও বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা আগে অপারেশন প্ল্যান থেকে বেতন পেতেন। প্রায় এক বছর বেতন না পাওয়ায় তাঁদের অনেকেই নিয়মিত কাজে ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি ও ধর্মঘট নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে।

টিকা কেনায় অর্থ ও পদ্ধতি নিয়ে বিলম্ব

টিকা কেনার অর্থের একটি অংশের জন্য সরকার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভর করেছিল। কোভিড-১৯ মোকাবিলার জন্য দেওয়া ঋণের অব্যয়িত অর্থের একটি অংশ টিকা কেনায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ২১ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টিকা কেনায় ৬০৯ কোটি টাকা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ১ জুন এডিবির কাছে পাঠানো হয়। প্রায় চার মাস পর এডিবি সম্মতি দেয়। এরপর অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও সময় লাগে।

এদিকে টিকা উন্মুক্ত দরপত্রে কেনা হবে, নাকি ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি কেনা হবে—তা নিয়েও মতভেদ ছিল। ইউনিসেফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা কিনতে ৮ থেকে ১১ মাস লাগতে পারে। সরাসরি পদ্ধতিতে সময় লাগতে পারে ২ থেকে ৪ মাস।

এই আলোচনা ও প্রক্রিয়া চলার সময় টিকার মজুত কমে যায়। পরে ইউনিসেফ প্রিফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে হামসহ কয়েক ধরনের টিকা সরবরাহ করে। তবে ২০২৬ সালের মে মাসে প্রথম চালান আসার সময় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছিল।

জাতীয় ক্যাম্পেইন হলেও লক্ষ্যে ঘাটতি

প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর ৫ এপ্রিল ১৮ জেলার ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও পৌরসভায় জরুরি টিকাদান শুরু করা হয়। ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে টিকা দেওয়া শুরু হয়। এরপর ২০ এপ্রিল সারা দেশে জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন শুরু হয়।

তবে জাতীয় ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

হামের টিকার জন্য নতুন করে সর্বনিম্ন বয়স ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হয়। কিন্তু ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ হলেও লক্ষ্যমাত্রায় রাখা হয় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে। ফলে প্রায় ৪৬ লাখ শিশু হিসাবের বাইরে থেকে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় ক্যাম্পেইন আরও আগে শেষ করা সম্ভব হলে প্রাদুর্ভাবের ব্যাপকতা কমতে পারত।

অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেছেন, সব শিশু টিকা পেলে সংক্রমণ সারা দেশে এতটা ছড়িয়ে পড়ত না।

৯২ শতাংশ মৃত শিশু টিকা পায়নি

গত জুনে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের এক সভায় বলা হয়, বাংলাদেশে হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ কোনো হামের টিকা পায়নি।

দেশের রোগতত্ত্ব, টিকা, ভাইরাস ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কয়েকজনও মনে করেন, জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন যথাসময়ে হলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতে পারত অথবা প্রাদুর্ভাব এত ব্যাপক হতো না।

বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান, তাজুল এ বারী, অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মুন্সী, খন্দকার মাহবুবা জামিল এবং অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলামের বক্তব্য অনুসন্ধানে এসেছে।

দায় কোনো এক পক্ষের নয়

অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই সংকটের দায় কোনো একটি সরকার বা প্রতিষ্ঠানের ওপর এককভাবে দেওয়া হয়নি।

দীর্ঘ সময় ধরে টিকার ঘাটতি, ক্যাম্পেইন পেছানো, তথ্যের যথাযথ ব্যবহার না করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা একসঙ্গে পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ইপিআই এবং আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সাবেক স্বাস্থ্যসচিব মো. সাইদুর রহমান বলেছেন, টিকা বিষয়ে মন্ত্রণালয় ইপিআই, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর নির্ভর করে। তাঁর দাবি, তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো সভায় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুস্পষ্ট বার্তা পাননি।

অন্যদিকে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স দাবি করেছেন, সম্ভাব্য টিকাসংকট নিয়ে সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যও সংকট ব্যবস্থাপনার সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

শিশুমৃত্যুর ভার সবচেয়ে বেশি পরিবারের ওপর

হামের প্রাদুর্ভাবের সবচেয়ে কঠিন প্রভাব পড়েছে পরিবারগুলোর ওপর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক পরিবার মুমূর্ষু শিশুর জন্য আইসিইউ শয্যা খুঁজতে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে গেছে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে ঋণগ্রস্তও হয়েছে।

ফাইয়াজ হাসান তাজিমের চিকিৎসায় তাঁর মা ফারজানা ইসলাম ও বাবা হেলাল ভূঁইয়া চার লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু সন্তানকে বাঁচাতে পারেননি তাঁরা।

১০ আগস্ট প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলার সময় ফারজানা ইসলাম হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, সন্তান হারানোর কষ্ট যে মায়ের হয়েছে, তিনিই সেই কষ্ট সবচেয়ে ভালো বোঝেন।

তাজিমের মৃত্যু এবং শত শত শিশুর মৃত্যুর ঘটনা শুধু একটি স্বাস্থ্য সংকটের চিত্র নয়; এটি টিকাদান ব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্বও সামনে এনেছে।

বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণে যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো সংক্রামক রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু টিকা থাকা যথেষ্ট নয়। সময়মতো টিকা কেনা, পর্যাপ্ত মজুত রাখা, বাদ পড়া শিশু শনাক্ত করা এবং মাঠপর্যায়ে টিকা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হয়।

একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করা জরুরি। টিকাদান কর্মসূচির অগ্রাধিকার নির্ধারণেও রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব কীভাবে এত বড় আকার নিল, তার পেছনের কারণগুলো নিয়ে অনুসন্ধানে যে তথ্য এসেছে, তা ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট এড়াতে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখায়।

সর্বাধিক পঠিত