এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (27)
মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন ইশরাক,মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে অবস্থানে অনড়
News Photocard (15)
বাংলাদেশে ৪৫ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা কানাডার
News Photocard
দুপুরে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক
News Photocard
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: বুকিংয়ের নথি আছে, খোঁজ নেই তুহিনের পরিবারের
News Photocard (37)
ডেসকোর প্রি-পেইড গ্রাহকদের জন্য বিশেষ অনুরোধ

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, বাড়ছে ঋণের চাপ

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, বাড়ছে ঋণের চাপ, দেশের ৪৭.৪২ শতাংশ পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ঋণ করেছে। বিবিএসের জরিপে গ্রামে সংকট বেশি, কমছে ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’ অনুযায়ী, দেশের ৪৭.৪২ শতাংশ পরিবার গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ঋণ করেছে। ২০২৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাম, শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার তিন হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, পরিবারের গড় মাসিক আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি। নিত্যপণ্যের উচ্চ দাম, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা এবং প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পরিবারের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবারগুলো এ চাপ বেশি অনুভব করছে।

বিবিএসের জরিপে উঠে আসা তথ্য দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, ক্রয়ক্ষমতা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেছে। আয় দিয়ে সংসারের খরচ মেটাতে না পেরে অনেক পরিবারকে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে অথবা ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারের দুর্বলতা এ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

পরিবারের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি: মাসে গড় ঘাটতি ১,৭৯৮ টাকা

বিবিএসের ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। বিপরীতে গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা।

অর্থাৎ, একটি পরিবারের গড় মাসিক আয়ের তুলনায় ব্যয় ১ হাজার ৭৯৮ টাকা বেশি। আয় ও ব্যয়ের এই ব্যবধান দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে পরিবারের সঞ্চয় কমে যেতে পারে এবং দৈনন্দিন খরচ চালাতে ধারদেনার প্রয়োজন বাড়তে পারে।

জরিপের এই হিসাব জাতীয় পর্যায়ের গড় চিত্র তুলে ধরে। সব পরিবারের আয় বা ব্যয়ের পরিস্থিতি একই নয়। তবে গড় ব্যয় আয়ের চেয়ে বেশি হওয়ার তথ্যটি সামগ্রিকভাবে পরিবারের আর্থিক চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে।

কেন আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে

সংবাদে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা এবং প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার কারণে মানুষের সংসার চালানো কঠিন হচ্ছে।

পরিবারের নিয়মিত ব্যয়ের মধ্যে খাদ্য, বাসস্থানসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাত রয়েছে। এসব খরচ মেটাতে আয় পর্যাপ্ত না হলে পরিবারগুলোকে অন্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। কারও ক্ষেত্রে এর অর্থ সঞ্চয় ভাঙা, আবার কারও ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়া।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এ ধরনের ঘাটতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। কারণ, দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পর সঞ্চয়ের জন্য অর্থ অবশিষ্ট না থাকলে সামান্য অতিরিক্ত ব্যয়ও আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে ঋণ, গ্রামে সংকট সবচেয়ে বেশি

বিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে দেশের ৪৭.৪২ শতাংশ পরিবার ঋণ করেছে। তবে অঞ্চলভেদে ঋণ নেওয়ার প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় ৫১.৯১ শতাংশ পরিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ঋণ করেছে। শহরাঞ্চলে এ হার ৪০.১৯ শতাংশ। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন এলাকায় এ হার ৩২.১১ শতাংশ।

অর্থাৎ, শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার তুলনায় গ্রামীণ পরিবারগুলোর মধ্যে দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেশি।

এই পার্থক্য গ্রামীণ পরিবারের আর্থিক চাপের বিষয়টি স্পষ্ট করে। অর্থনীতিবিদদের মতে, গ্রামে আয়ের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খরচ চালাতে ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করছে।

তবে শুধু ঋণ নেওয়ার হার দিয়ে কোনো অঞ্চলের সব পরিবারের আর্থিক অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। জরিপে পাওয়া তথ্য মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ঋণ নেওয়া পরিবারের অনুপাত তুলে ধরে।

অঞ্চলভেদে মাসিক ব্যয়ের চিত্র

বিবিএসের জরিপে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক ব্যয়ের ক্ষেত্রেও গ্রাম, শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে।

এলাকাপরিবারপ্রতি গড় মাসিক ব্যয়
সিটি করপোরেশন৪৬,৭৭৮ টাকা
শহরাঞ্চল৩৭,৩৪৪ টাকা
গ্রামীণ এলাকা৩২,৫৩২ টাকা
জাতীয় পর্যায়৩৫,৩১১ টাকা

তথ্য অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবারপ্রতি গড় মাসিক ব্যয় সবচেয়ে বেশি। গ্রামীণ এলাকায় এই ব্যয় তুলনামূলক কম।

তবে ব্যয়ের পরিমাণ কম হলেই কোনো এলাকার পরিবারগুলো আর্থিকভাবে স্বচ্ছন্দ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। পরিবারের আয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও তাদের আর্থিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে।

গ্রামীণ এলাকায় গড় ব্যয় কম হলেও সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ঋণ নেওয়া পরিবারের হার বেশি। অর্থাৎ, ব্যয়ের পরিমাণের পাশাপাশি আয় কতটা পর্যাপ্ত, সেটিও পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি বোঝার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয়ের পার্থক্য

বিবিএসের জরিপে জাতীয় পর্যায়ে পরিবারের মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক খাদ্য খাতে এবং বাকি প্রায় অর্ধেক খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তবে গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য ব্যয়ের চাপ তুলনামূলক বেশি।

অন্যদিকে, সিটি করপোরেশন এলাকার পরিবারগুলো মোট ব্যয়ের ৫৬.৭ শতাংশ খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় করে।

এই চিত্র থেকে বোঝা যায়, বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবারের ব্যয়ের ধরন এক নয়। কোথাও খাদ্য খাতে ব্যয়ের চাপ বেশি, আবার কোথাও খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয়ের অংশ বড়।

পরিবারের মোট আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হলে এই দুই ধরনের খরচের ভারসাম্য রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর সুযোগ সীমিত থাকলে পরিবারগুলোকে ঘাটতি পূরণের জন্য ঋণ বা সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়।

মজুরি বৃদ্ধির হার কমছে, কমছে ক্রয়ক্ষমতা

পরিবারের আয়-ব্যয়ের ঘাটতির পেছনে মজুরি ও মূল্যস্ফীতির ব্যবধানও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

বিবিএসের মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের মাসে, অর্থাৎ আগস্টে, এই হার ছিল ৮.০৫ শতাংশ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানা ৫৬ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি ছিল। এর ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

মজুরি বাড়লেও যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও দ্রুত বাড়ে, তাহলে আগের তুলনায় একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে কম পণ্য কেনা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, আয় সংখ্যাগতভাবে বাড়লেও বাস্তবে সেই আয় দিয়ে কতটা প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে, তা কমে যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোকে খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোন খাতে কতটা ব্যয় কমানো হচ্ছে, সে বিষয়ে সরবরাহ করা জরিপের তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

কর্মসংস্থানের স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব

অর্থনীতিবিদদের মতে, মহামারির পর থেকে দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকলে পরিবারের আয় বাড়ানোর পথ সংকুচিত হয়। একই সময়ে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে মাসিক বাজেটের ওপর চাপ তৈরি হয়। আয় বাড়ানোর সুযোগ না থাকায় পরিবারগুলোকে তখন সঞ্চয় ব্যবহার বা ঋণ নেওয়ার মতো বিকল্প বেছে নিতে হয়।

গ্রামীণ পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে আয়ের সুযোগ সীমিত থাকার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। বিবিএসের জরিপেও গ্রামে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ঋণ নেওয়া পরিবারের হার শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, প্রবাস আয় থেকেও সীমিতসংখ্যক মানুষ বেশি উপকৃত হচ্ছেন বলে অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ফলে প্রবাস আয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর সুবিধা সব পরিবারের কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে দারিদ্র্য বৃদ্ধির আশঙ্কা

বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে।

গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমের চাহিদায় ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে আনুমানিক ২২.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

এটি বিশ্বব্যাংকের দেওয়া একটি অনুমানভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিতভাবে ঘটে যাওয়া ফল নয়। তবে শ্রমবাজারের দুর্বলতা ও মূল্যস্ফীতির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব কীভাবে মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে, সেই বিষয়ে প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।

দারিদ্র্যের হার বাড়লে আরও বেশি পরিবার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে সমস্যায় পড়তে পারে। একই সঙ্গে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান সামাল দেওয়ার সক্ষমতা কমে গেলে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

পরিবারের আর্থিক চাপ বোঝার ক্ষেত্রে জরিপের গুরুত্ব

বিবিএসের ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’ জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে সংস্থাটির দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল পরিচালনা করে। ২০২৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাম, শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার তিন হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

এই জরিপের মাধ্যমে পরিবারের আয়, ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া গেছে।

তবে জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারের তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া গড় আয় ও ব্যয়ের পরিসংখ্যানকে প্রতিটি পরিবারের অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। পরিবারের আয়ের উৎস, সদস্যসংখ্যা, কর্মসংস্থান এবং বসবাসের এলাকার ভিত্তিতে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

তবু জাতীয় পর্যায়ে গড় ব্যয় আয়ের চেয়ে বেশি হওয়া এবং প্রায় অর্ধেক পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ঋণ নেওয়ার তথ্য আর্থিক চাপের ব্যাপ্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

বিবিএসের জরিপে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা হলেও ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। মাসে গড়ে ১ হাজার ৭৯৮ টাকার এই ব্যবধান পূরণ করতে অনেক পরিবারকে সঞ্চয় বা ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

একই সঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় ঋণ নেওয়ার হার ৫১.৯১ শতাংশে পৌঁছানো এবং মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকার তথ্য পরিস্থিতির জটিলতা তুলে ধরে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসেও শ্রমের চাহিদার ঘাটতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দারিদ্র্য বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, পরিবারের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি কেবল মাসিক বাজেটের হিসাব নয়; এটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক। জরিপের তথ্য থেকে স্পষ্ট, আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান সামাল দিতে অনেক পরিবারকে বিকল্প অর্থায়নের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবারের ক্ষেত্রে এ চাপ তুলনামূলক বেশি।

সর্বাধিক পঠিত