এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (9)
কানাডায় সামরিক মহড়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪ সেনা সদস্য নিহত
News Photocard (3)
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে রুশ জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার আশা, দরপতন বিশ্ববাজারে
News Photocard (19)
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ ব্যর্থ : রিপোর্ট
News Photocard (6)
ডাকভোট ইস্যুতে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কারাদণ্ডের হুমকি ট্রাম্পের
News Photocard (25)
সিজেপির ২ নেতাকে ৫ দিন কারাগারে রাখার নির্দেশ দিলেন আদালত

রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে ট্রাম্পের সাফাই, জেলেনস্কিকে কটাক্ষ

রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে সাফাই দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মস্কোকে শান্তি আলোচনায় রাখতে চান। জেলেনস্কির পাল্টা বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় মস্কোকে ধরে রাখতেই তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। রবিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে আন্তরিক না থাকার অভিযোগ করেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, জেলেনস্কির আশঙ্কা, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়বে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার ওপর নতুন করে কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কয়েক দিন আগে সেগুলো স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরু হলে তিনি নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

রাশিয়ার জ্বালানি খাত, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তটি এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা শিথিল: ট্রাম্পের যুক্তি কী?

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা মস্কোকে শান্তি আলোচনার বাইরে ঠেলে দেয়। তাঁর দাবি, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করতে তিনি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সে কারণে আলোচনার সম্ভাবনা বজায় রাখাই তাঁর সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্তের যুক্তি সহজ। তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে চান। এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না, যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

ট্রাম্পের এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, তাঁর প্রশাসন অন্তত এই ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মাধ্যমে রাশিয়াকে আলোচনায় রাখা সম্ভব হবে কি না, কিংবা এতে যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া কতটা এগোবে, সে বিষয়ে উৎস প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো ফলাফলের কথা বলা হয়নি।

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক কেন?

২০২২ সালে ইউক্রেনে বড় পরিসরে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো দেশটির ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও, রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখা ইউক্রেনের অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত বা শিথিল করার সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলেনস্কির মতে, এমন পদক্ষেপ রাশিয়াকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও সুযোগ করে দিতে পারে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের যুক্তি হলো, রাশিয়াকে আলোচনার বাইরে ঠেলে দেওয়া হলে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে মূল পার্থক্য দেখা যাচ্ছে নিষেধাজ্ঞার চাপ এবং শান্তি আলোচনার কৌশল নিয়ে।

জেলেনস্কির অভিযোগ: নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে শক্তিশালী হবে পুতিন

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, এতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।

রবিবার মার্কিন টেলিভিশন এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি রাশিয়া ও ইউক্রেনের পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে পুতিনের তুলনা করা যায় না। পুতিনকে তিনি আগ্রাসনকারী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল করেছে। তাঁর বক্তব্যে বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের হত্যার অভিযোগও উঠে আসে।

জেলেনস্কি আরও বলেন, এসব কারণে তিনি আশা করেন, ট্রাম্প এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।

জেলেনস্কির বক্তব্যে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথমত, তাঁর মতে, রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের দায় এবং ইউক্রেনের আত্মরক্ষার অবস্থান এক করে দেখা উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য বেড়ে যেতে পারে।

তবে জেলেনস্কির এই আশঙ্কার বিপরীতে ট্রাম্পের অবস্থান হলো, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে রাখা জরুরি। দুই নেতার বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে সরাসরি বিরোধ না থাকলেও, সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর উপায় নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট।

জেলেনস্কিকে কটাক্ষ করে ট্রাম্পের নতুন অভিযোগ

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি জেলেনস্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে অনিচ্ছার অভিযোগও আবার তুলেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি দাবি করেন, ইউক্রেন রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলার ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা জেনেও কিয়েভ এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইউরোপ থেকে জেলেনস্কি বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা পাচ্ছেন, তারপরও তিনি যুদ্ধ শেষ করতে চান না। এমনকি জেলেনস্কি আদৌ কখনো যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এগুলো ট্রাম্পের নিজস্ব অভিযোগ ও রাজনৈতিক বক্তব্য। উৎস প্রতিবেদনে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই বা জেলেনস্কির পক্ষ থেকে এ নির্দিষ্ট বক্তব্যের জবাব উল্লেখ করা হয়নি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে চলমান মতবিরোধকে আরও প্রকাশ্য করেছে। বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত একই বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।

ডিজেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারের হিসাব

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিতর্কের পেছনে জ্বালানির বাজারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ট্রাম্প গত ৯ অক্টোবর ঘোষণা দিয়েছিলেন, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে।

উৎস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা করেন ট্রাম্প।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে প্রণালিটিকে ঘিরে অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনাকে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ধারণের মতো বিস্তারিত তথ্য উৎস প্রতিবেদনে নেই।

জ্বালানি নীতিতে রাজনৈতিক চাপ

রাশিয়ার জ্বালানি খাতের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তাও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন।

সমালোচকদের বক্তব্য হলো, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সাড়ে চার বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মাধ্যমে একধরনের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমিয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তি আলোচনার পথ খোলা রাখার যুক্তি সামনে আনছেন ট্রাম্প। ফলে এই সিদ্ধান্তের মূল্যায়নে দুটি বিষয় মুখ্য হয়ে উঠেছে—একদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির আলোচনা

বিতর্কের মধ্যেই রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনার কথা জানান জেলেনস্কি।

তিনি বলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের অংশ হিসেবে এই আলোচনা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা।

জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ইউক্রেন নিজেদের দিক থেকে প্রয়োজনীয় সবকিছু করছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী রাখা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত সাড়ে চার বছর ধরে রাশিয়া ছাড়া অন্যরা যে শান্তির অপেক্ষায় রয়েছে, সেই শান্তি প্রতিষ্ঠাই তাঁদের লক্ষ্য।

উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে জেলেনস্কির আলোচনার খবর থেকে বোঝা যায়, প্রকাশ্য মতবিরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। তবে আলোচনায় কী কী নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়েছে বা পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে কূটনীতি

জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আলোচনা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

উৎস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে এই হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এ পরিস্থিতি যুদ্ধের সামরিক ও বেসামরিক—দুই দিকের সংকটকে সামনে এনেছে। একদিকে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা সরবরাহব্যবস্থা ও বাজারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, অন্যদিকে বিদ্যুৎবিহীন মানুষের দুর্ভোগ দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে।

এর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে এসব ঘটনার পরিণতি কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা শিথিল নিয়ে সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে।

প্রথমত, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা কার্যকর কূটনৈতিক কৌশল হবে কি না, তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ট্রাম্প এ পদক্ষেপকে শান্তি আলোচনার সুযোগ বজায় রাখার অংশ হিসেবে দেখছেন। বিপরীতে, জেলেনস্কি মনে করছেন, এতে রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে।

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা এবং রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করা হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি এই হিসাবকে আরও জটিল করেছে।

তৃতীয়ত, প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এই যোগাযোগ থেকে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কের বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক চাপের প্রশ্নও যুক্ত। ট্রাম্প ও জেলেনস্কির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এই মতপার্থক্যকে সামনে এনেছে। শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা নীতি শান্তি আলোচনায় কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থানের ওপর।

সর্বাধিক পঠিত