এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (18)
প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর
News Photocard (15)
কিলোমিটারপ্রতি যত বাড়ল বাসভাড়া
News Photocard (9)
বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন
News Photocard (3)
৩ দাবি মানলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
News Photocard (27)
বিদেশ সফরে জামায়াতের ৩৪ এমপি, নানা সমালোচনা

নিউইয়র্ক সফর: প্রথম দিনে ১০ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ প্রধানমন্ত্রীর

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে ১২টির মধ্যে ১০ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ, রোহিঙ্গা, তুরস্ক ও বিশ্বব্যাংক নিয়ে হয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে নির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির মধ্যে ১০টিতে সরাসরি অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। দিনের কর্মসূচিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশন, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা ছিল।

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের ব্যস্ততা

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচি ছিল বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগকেন্দ্রিক। সকালে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও প্লেনারি অধিবেশনে অংশ নেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

একই সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি। মাহদী আমিন এটিকে বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

আঞ্চলিক সহযোগিতায় ভুটান ও মালদ্বীপের সঙ্গে বৈঠক

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের আঞ্চলিক কর্মসূচিতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকগুলোতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার বিষয় ছিল। পাশাপাশি সার্ক অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও আলোচনায় আসে।

এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। উৎসে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনের আঞ্চলিক পর্যায়ের আলোচনার একটি বড় অংশ ছিল জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা।

হাইতি ও তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা

প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় দেশটির অস্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা থেকে হাইতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে উপকৃত হতে পারে, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠককে গঠনমূলক, আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন ড. মাহদী আমিন।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এরদোয়ান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্বাচনী বিজয় এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তাঁকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণও জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট আলোচনায় গুরুত্ব

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকগুলোতে ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে সামনে রেখে বৈশ্বিক অংশীদারি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উদ্যোগ আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব মোকাবিলা করছে। এই সফরের প্রথম দিনেই বিষয়টি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনায় আসায় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে সংকটটির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে—এটি উৎসে দেওয়া আলোচনার বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে বলা যায়।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে উন্নয়ন ও অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের এই বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং বাজেট নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের আরও বড় ভূমিকা রাখার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে কীভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।

এ ধরনের আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতার বিষয়গুলো সামনে আসে।

১২ কর্মসূচির মধ্যে ১০টিতে সরাসরি অংশগ্রহণ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন জানান, প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর মোট ১২টি কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে তিনি সরাসরি অংশ নেন ১০টিতে।

তবে সময়সূচির কারণে কয়েকটি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এর মধ্যে মেটার সঙ্গে বৈঠকও ছিল। ওই বৈঠকে বাংলাদেশে মেটার বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী এবং দুই পক্ষের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়।

অর্থাৎ, তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনটি শুধু জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগও ছিল দিনের কর্মসূচির অংশ।

বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব

প্রেস ব্রিফিংয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচিগুলোতে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা তুলে ধরার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন।

এর আগে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সম্পর্কে দেওয়া বক্তব্যেও মাহদী আমিন বাংলাদেশের স্বার্থ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার কথা জানিয়েছিলেন।

ফলে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের কর্মসূচিগুলোকে কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্রে ভাগ করা যায়—জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় কার্যক্রম, আঞ্চলিক সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা।

প্রথম দিনের কর্মসূচিতে কারা ছিলেন

প্রেস ব্রিফিংয়ে ড. মাহদী আমিনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন।

প্রথম দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচির পর তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের পরবর্তী পর্বে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার বিষয়টি সামনে রয়েছে।

সফরের প্রথম দিনের সারসংক্ষেপ

সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কে প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১২টি নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে ১০টিতে সরাসরি অংশ নেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভুটান, মালদ্বীপ, হাইতি ও তুরস্কের সঙ্গে বৈঠক করেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের মতো বিষয়ও আলোচনায় আসে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের কর্মসূচিগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় ও জনস্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অবস্থান তুলে ধরার বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই দিনে কয়েকটি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেওয়ায় সফরের নির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির সবগুলোতে তাঁর ব্যক্তিগত উপস্থিতি সম্ভব হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত